বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০, ০৫:১১ পূর্বাহ্ন

  • বাংলা বাংলা English English

জিইএম কোম্পানির অফিস ঘেরাও করেছেন শ্রমিকেরা।
মোঃ বিল্লাল হোসেন, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি / ৩৮ বার
আপডেট : বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০

আজ বুধবার ২৪ শে জুন বেলা ১১ টার দিকে এই ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেন। চট্টগ্রাম নগরের পতেঙ্গা থানা এলাকায় জেনারেল ইলেকট্রিক ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেডের (জিইএম) থেকে অবসর গ্রহণ করার পরও তাদের পাওনা পরিশোধ না করায় মানবেতর জীবন যাপন করছেন প্রায় দুই শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী। এই প্রতিষ্ঠান থেকে জনপ্রতি প্রায় ১৫ লাখ বকেয়া পাওনার মধ্যে প্রায় ২৫ কোটি টাকা অনাদায়ী রয়েছে বলে দাবি করেছেন তারা। অভিযোগ রয়েছে, স্ট্রোল ক্যাডারদের অবসরের যাওয়ার ২-৩ মাসের মধ্যে সব পাওনা পরিশোধ করা হলেও চট্টগ্রামের শ্রমিকদের অবসরের যাওয়ার ৪ বছরেও পাওনা পরিশোধ না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা। জানা যায়, গত ২০১৫ সাল থেকে চলতি বছরে উত্তর পতেঙ্গায় বাংলাদেশ ইস্পাত করপোশেন আওতাধীন জেনারেল ইলেকট্রিক ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেড থেকে প্রায় দুই শতাধিক কর্মচারী-কর্মকর্তারা অবসর গ্রহণ করে। এদের সবাই ৪০-৪২ বছর ওই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। প্রত্যেকের গ্র্যাচুইটি ও প্রভিডেন্ট ফাউন্ড ও অন্যান্য বকেয়া পাওনা রয়েছে প্রায় ১৫ লাখ টাকা। বকেয়া পরিশোধ নিয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করে, দেনদরবার বা চিঠিপত্র দিয়েও এর কোন সুরাহা হয়নি। এতে অবসর নেয়ার দীর্ঘ সময় পার হলেও বকেয়া পাওনা টাকা না পাওয়ায় সবাই মানবেতর জীবন যাপন করছেন। শ্রম আইন ২০০৬—এর ৩০ ধারায় বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত কোন শ্রমিক অবসর গ্রহণ করার ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে পাওনা পরিশোধ করার বিধান থাকলেও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অবহলো ও একশ্রেণির অসাধু কর্মকর্তাদের গাফিলতিতে দীর্ঘ ৪ বছরেও শ্রমিকের পাওনা পরিশাধ করা হয়নি বলে অভিযোগ তোলেন বাংলাদেশ ওয়েল অ্যান্ড গ্যাস, বিসিআইসি ফেডারেশন, বিএমসিসি আওতায় সিবিএ ও নন সিবিএ নেতারা। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, জিইএম প্ল্যান্টের প্রায় ১৬৭ কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ চলতি বছরে আরও নতুন করে বেশ কয়েকজন অবসর গ্রহণ করেছেন। ২০১৬-২০১৮ সাল পর্যন্ত অবসরে যাওয়া ব্যক্তিদের আংশিক পাওনা পরিশোধ করা হয়। কিন্তু এই প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২৫ কোটি টাকা এখনো পাওনা রয়েছে। এতে বেশিরভাগ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। পতেঙ্গা হালিশহর অঞ্চল জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি মোহাম্মদ ইউনুস বলেন, ‘জিইএম প্ল্যান্টে দীর্ঘ ৪০-৪২ বছর চাকরি শেষ করে বকেয়া পাওনা পরিশোধ না করা দুঃখজনক। প্রায় দুই শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বকেয়া সমস্ত পাওনা পরিশোধের ব্যবস্থা নিতে ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট অথোরিটিকে জানানো হয়েছে। গত ৪ বছরে এর কোন সমাধান হচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর অবসর নেয়া ব্যক্তিরা একযোগে জিইএম-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের অফিস ঘেরাও করেন। এ সময় উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আমাদের পাওনা পরিশোধের জন্য দুই সপ্তাহ সময় বেঁধে দেন। এছাড়া চলতি বছর রোজাতেও আন্দোলন করা হয় কিন্তু এ ব্যাপারে কোনো সুরাহা হয়নি । তাই আজ এই ঘেরাও কর্মসূচি নেয়া হয়েছে । প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচির মাধ্যমে পাওনা আদায়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।’

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ক্যাটাগরির আরো সংবাদ