শনিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ০৩:২৫ অপরাহ্ন

  • বাংলা বাংলা English English

চাঁপাইনবাবগঞ্জে মারামারি মামলার আসামি মায়ের কোলে চড়ে আদালতে।। মামলা খারিজ
ইমাম হাসান জুয়েল চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ / ৪০ বার
আপডেট : শনিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২০

মারামারি সংক্রান্ত ১০৭ ধারার একটি মামলার প্রধান আসামী মায়ের কোলে চড়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের একটি আদালতে উপস্থিত হলে এবং একই মামলায় অপর এক আসামী শিশু হওয়ায় আদালত সে মামলা খারিজ করে দেয়।

ঘটনাটি রবিবার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ঘটে।
শিশুদ্বয় হলো মামলার ৪নং আসামী সদর উপজেলার রামজীবনপুর গ্রামের আবু তালহার ছেলে মো: সেরাজুল ইসলাম(১৩) এবং মামলার ১নং আসামী একই উপজেলার আজাইপুর গ্রামের রমজান আলীর ছেলে নাদিম আলী(৭)। এ সময় একই মামলার অপর ২ আসামী শিশু সেরাজুলের পিতা আবু তালহা ও নাদিমের মাতা আলিয়া বেগমকেও আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে,মামলার প্রধান আসামী শিশু নাদিমের মা তার পিতাকে বিদেশ পাঠানোর জন্য বছর খানেক আগে চড়া সুদে একই এলাকার গোলাম রসুলের কাছে ১ লক্ষ টাকা লোন নেয় । সে টাকা সুদসহ দিতে বিলম্ব হলে লোনদাতা আজাইপুর বটতলাহাটের মো: গোলাম রসুল চাঁপাইনবাবগঞ্জের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করে। যার নম্বর ৫৬৮ সি/১৯(নবাব)।এ মামলায় টাকা প্রদানের মাধ্যমে আপোষের শর্তে আসামীরা জামিন লাভ করলে পরবর্তাতে আলেয়া বেগম নিদ্দিষ্ট সময়ে টাকা দিতে ব্যর্থ হলে গোলাম রসুল তার উপর প্রধান আসামী শিশু নাদিমের নেতৃত্বে হামলা হয়েছে বলে একই আদালতে অপর একটি মামলা দায়ের করে।যার নম্বর-১২পি/২০(নবাব)।
এ মামলায় রবিবার দুপুরে ২ শিশু ও তাদের একজনের পিতা এবং অপরজনের মাতা জামিনের জন্য আদালতে উপস্থিত হলে আদালত মামলাটি খারিজ করে দেন।

এ ব্যাপারে শিশু নাদিমের মা আলিয়া বেগম জানান, ১ লক্ষ টাকা ধার নিয়ে অল্প সময়ে মামলাকারী গোলাম রসুল দেড় লক্ষ টাকা দাবী করেন।কিন্তু তিনি আদালত থেকে জামিন পেয়ে নিদ্দিষ্ট সময়ে ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা দেয়ার পরও তার কোলের শিশু ও তাকে জড়িয়ে মিথ্যা মামলা দায়ের করে।
অন্যদিকে মামলার ৪নং আসামী ও অপর শিশুর পিতা আবু তালহা জানান, তার আতœীয় আলিয়া বেগমের প্রথম মামলায় জামিন করতে সহায়তা করায় পরবর্তীতে পরিকল্পিতভাবে তাকে ও তার শিশু সন্তান সেরাজুল ইসলাম কে আসামী করেছে।
এ ব্যাপারে আইনজীবি মো: জোবদুল হক জানান,জন্মনিববন্ধন সার্টিফিকেট অনুযায়ী শিশু ২টির বয়স ১৮ বছরের নিচে হলেও বয়স গোপন করে অসৎ উদ্দ্যেশে গোলাম রসুল একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করে শিশুদের প্রধান আসামী করেছে।যা আইনবহির্ভত।বিষয়টি আদালত অবগত হয়ে তাৎক্ষনিকভাবে মামলাটি খারিজ করে দেন।তবে তিনি এ ধরনের মামলা দায়েরকারী ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।
অন্যদিকে মামলার বাদী গোলাম রসুল জানান, ভ’লবশত শিশুদের আসামী করা হয়েছে।মামলাটি তিনি আসামীদের সাথে বসে মিমাংসা করে নিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ক্যাটাগরির আরো সংবাদ