সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০, ০২:০৭ অপরাহ্ন

  • বাংলা বাংলা English English

ভক্ত হবি তো, বোকা হবি কেন?
উজ্জ্বল রায়, নিজস্ব প্রতিবেদকঃ / ৩৪ বার
আপডেট : সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০

ভক্তরা যাঁরা যেতেন তাঁর কাছে, তাঁদের কাজ শেখাতেন হাতে কলমে। সাধারণ দৈনন্দিন ব্যাপারে যে অপটু, সর্বদা অমনোযোগী তার ধর্মজীবনে উন্নতি কঠিন। এই মন নিয়েই তো তাঁকে পেতে হবে! মনেতে ফাঁকি, ভুলভ্রান্তি থাকলে তাঁকে লাভ হয় না। একটা ফাটা কড়াই কিনে এনেছিল বলে যোগেন স্বামীকে তিরস্কার করেছিলেন। বলেছিলেন, “দোকানদার কি ধর্মপুত্র যুধিষ্ঠির? সে তো তার জিনিস চালাবেই। তুই দেখে আনলি নে কেন? তোর তো চোখ আছে।” তক্ষুনি আবার ফেরত পাঠান বদলে আনতে।

ঠাকুরের কি দৃষ্টি! সব দিকে তিনি লক্ষ্য রাখতেন। একজন দশটার জায়গায় ছয়টা পান এক পয়সা দিয়ে এনেছিলেন। অমনি তিরস্কার—- “ঠকবি কেন? আনবি ঠিক, বেশি হয়—- অন্যকে বিলিয়ে দে। তবুও ঠকবি না।” এর মানে আছে, ও একটা স্বভাব হয়ে যায়। কামিনী-কাঞ্চনের বিষয়েও ঠকে যাবে শেষে। ঠকে যাওয়া স্বভাব হয়ে যায়। বলতেন কি না প্রায়ই, “ভক্ত হবি তো বোকা হবি কেন?”

পঞ্চবটীতে একজন ছাতা ফেলে এল। ঘরে এসে তিরস্কারের সুরে ঠাকুর বললেন, “এখানকার কাপড় গায়ে থাকে না তবুও অমন ভুল হয় কই?” সারা জীবন ধর্মজীবন, সর্ব কার্যে ধর্মাচরণ। খানিকটা ধর্মাচরণ আর খানিকটা অন্যরকম, ওতে হয় না। আহার, বিহার, শয়ন, স্বপন, জপ, ধ্যান, পূজা, পাঠ— সর্বাবস্থায় মনের এক ভাব থাকবে— এক উদ্দেশ্য ঈশ্বরলাভ।

ধর্মের আর একটা প্রচলিত অর্থই হয়েছে বাইরের বিষয়ে এলোমেলো থাকা। কিন্তু ঠাকুর এসব দেখতে পারতেন না। বলতেন, “মহা তমোগুণে এরূপ হয়। এ কয়টার উপরে বিশেষ লক্ষ্য রাখতেন: “প্রথম, পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা। প্রায়ই আলস্যের জন্যই লোক অপরিস্কার থাকে। ঈশ্বরচিন্তা করে দেহভুল কজনের হচ্ছে? পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা না থাকলে ভগবানের আবির্ভাব হয় না। অন্তর্বহিঃ শৌচের দরকার। দ্বিতীয়, waste (অপব্যয়) না হয়। অনেকে জিনিস নষ্ট করে, তা দেখতে পারতেন না। একবার এক টুকরো লেবুর জায়গায় ছয় টুকরো কেটেছিল বলে তিরস্কার করেছিলেন কাশীপুরে। বলেছিলেন, “ভক্তরা কত কষ্ট করে অর্থোপার্জন করে, সেই অর্থে সেবা হচ্ছে, তার অপব্যবহার!” বলতেন, “লক্ষ্মীছাড়া থেকে কৃপণ হওয়া ভাল।” আহারের সময় অনেকে ভাতটাত কত নষ্ট করে। এসব পছন্দ করতেন না। তৃতীয়, ছেঁড়া কাপড় কিংবা ময়লা কাপড় পরা দেখতে পারতেন না। বলতেন, “সেলাইকরা কাপড় পরলে লক্ষ্মীছাড়া হয়।” চতুর্থ, এলোমেলো ভাব— যেমন এখানকার জিনিস ওখানে রাখা। যার যে স্থান সেখানে রাখা আর সাজিয়ে রাখা। পঞ্চম, নিজের রান্না নিজে করা। বলতেন, “ভক্তরা যারা তাঁর ভজনা করবে, তারা নিজের দুটি চাল নিজে ফুটিয়ে নেবে। ভগবানে অর্পণ করে প্রসাদ পাবে। এতে পরের উপর নির্ভর করতে হয় না, আর সত্ত্বহানিও হয় না।”

বলতেন, “সর্বাবস্থায় তাঁর পূজা। কোনটাই অবহেলা করা চলে না। আহার, বিহার, শয়ন, চলন, বলন, সর্বদা সর্ববস্তুতে তাঁর অনুধ্যান। তবে তো ধর্ম।”

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ক্যাটাগরির আরো সংবাদ