শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২০, ০৩:৫৪ অপরাহ্ন

  • বাংলা বাংলা English English

অফিস সহকারী থেকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক
মোঃ একদিল হোসেন বার্তা সম্পাদক সন্ধান বাংলা টিভি / ২১ বার
আপডেট : শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২০

অধ্যয়ন শেষে ভাল একটি চাকুরী সকলের প্রত্যাশা থাকে। নিজ মেধা ও দক্ষতার গুণে জিরো থেকে হিরো হওয়া যায়। এমন এক সত্য ও বাস্তব ঘটনার দৃষ্টান্ত রচনা করলেন টাংগাইলের ঐতিহ্যবাহী ১০১ কক্ষ বিশিষ্ট ১৮৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত সন্তোষ জাহ্নবী উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক জনাব মো. মিয়াচান।তার অদম্য ইচ্ছাশক্তি, সাহস, সততা, একাগ্রতা, অধ্যবসায় আর তারুন্যের ছুটে চলা অমসৃন পথ জয় করে এ পর্যন্ত আসা অনেকেরই ভবিষ্যৎ গড়তে জলন্ত উদাহরণ হিসেবে প্রেরণা যোগাবে। অতি দরিদ্রতার মধ্যে বেড়ে ওঠা জনাব মো. মিয়াচান অত্র বিদ্যালয় থেকে ১৯৯৫ সালে এসএসসি পাশবকরেন। তিনি এইচ এসসি পাস করেই স্নাতক শ্রেণিতে অধ্যয়নরত অবস্থায় তার নিজ গ্রামে টাঙ্গাইল সদর-৫ আসনের বর্তমান মাননীয় সাংসদ আলহাজ্ব মো. ছানোয়ার হোসেন মহোদয় তার পিতা মরহুম আলহাজ্ব আবুল হোসেন এর নামে প্রতিষ্ঠিত হাজী আবুল হোসেন আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠালগ্নেই অফিস সহকারী হিসেবে ০১/০১/১৯৯৯ খ্রি. হতে কর্মজীবন শুরু করেন। তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে ৩০/০১/২০০৫ খ্রি.পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।

বিদ্যালয়ের সার্বিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করেন। সরকার প্রতিটি বিদ্যালয়ে একটি করে নতুন সৃষ্ট পদে কম্পিউটার শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার প্রজ্ঞাপন জারি করলে ০১/০২/২০০৫ খ্রি. তারিখে সহকারী শিক্ষক (কম্পিউটার) পদে সন্তোষ জাহ্নবী উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগদান করেন এবং আইসিটি শিক্ষক হিসেবে টাঙ্গাইল জেলায় যথেষ্ঠ সুনাম অর্জনে সক্ষম হন। যুগোপযোগী আইসিটি বিষয়ে বিশেষ দক্ষতার কারণে অতি অল্প সময়ে শিক্ষক সম্প্রদায়, শিক্ষা অফিস সহ সকলের প্রিয়ভাজন হয়ে উঠেন। বিদ্যালয়ে কর্মদক্ষতার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ১৫/০৭/২০১৭ খ্রি. সহকর্মী সহ সকলের আশীর্বাদে সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে আসীন হন। কর্মবীর এই যোদ্ধা সকল অবদানের পুরস্কার হিসেবে ০৮/১০/২০২০ খ্রি. তারিখে বিদ্যায়ের সর্বোচ্চ আসন প্রধান শিক্ষক হিসেবে মনোনীত হয়েছেন।
তিনি নিজ যোগ্যতায় সকলের আশির্বাদ নিয়ে, বিদ্যালয়ের ছাত্র হয়ে শিক্ষাগুরুদের সহকর্মী হওয়া, প্রথমে সহকারী শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক এমনকি শেষ পর্যন্ত প্রধান শিক্ষক হওয়া এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
এই কর্মবীর মানুষটি শিক্ষকতার পাশাপাশি, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি, টাঙ্গাইল জেলা শাখায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রধানদের স্নেহের পাত্র হয়ে উঠেন।
মনে সৎ চিন্তা,সুনির্দ্দিষ্ট লক্ষ্য, কাজের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হলে অফিস সহকারী পদে চাকুরী শুরু করে প্রধান শিক্ষক হওয়া সম্ভব এটি তার জলন্ত উদাহরণ। তাঁর সার্বিক সফলতা কামনা করছি।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ক্যাটাগরির আরো সংবাদ