সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০, ০২:১৭ অপরাহ্ন

  • বাংলা বাংলা English English

নগর সেবায় ক্যারাভান কার্যক্রমে চসিক প্রশাসক ক্যারাভান নগরবাসীর হৃদয়ে আশার সঞ্চার সৃষ্টি করেছে।
মোঃবিল্লাল হোসেন, চট্টগ্রাম / ৪০ বার
আপডেট : সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন বলেছেন, ক্যারাভান কর্মসূচী নগরবাসীর হৃদয়ে আশার সঞ্চার সৃষ্টি করেছে। এ কর্মসূচী নিয়ে জনগনের দোরগোড়ায় যাচ্ছি। তাৎক্ষণিক সেবা দিচ্ছি। সিটি কর্পোরেশনকে জনগনের আস্থার প্রতিষ্টানে পরিণত করার প্রানান্ত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি যাতে জনগণ এবং সিটি কর্পোরেশনের মাঝে কোন দেয়াল না থাকে। তবে যেখানেই আমি যাই আমার অনুপস্থিতিতে একই অবস্থার পূনরাবৃত্তি ঘটছে। এ ব্যাপারে যারা যুক্ত আছেন সেসব বিভাগকে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিচ্ছি। তিনি আরো বলেন, ক্যারাভান একটি সামাজিক আন্দোলন। পুঞ্জিভূত সমস্যা থেকে উত্তরনের জন্য এ কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে। যেখানেই সমস্যা সেখানেই প্রাথমিক সমাধান। নগরবাসীর প্রতি আমার আহবান থাকবে যেখানে সমস্যা বা ভোগান্তি দেখবেন আমাকে জানাবেন আমি সাথে সাথে ব্যবস্থা নেবো। তিনি আজ বিকেলে নগরীর মুরাদপুর হইতে অক্সিজেন পর্যন্ত চসিকের প্রকৌশল ও পরিচ্ছন্ন বিভাগের সমন্বয়ে গঠিত টিম নিয়ে ‘নগর সেবায় ক্যারাভান’ কার্যক্রমে এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, জলজট নিরসনে দ্রুত পানি নিস্কাশনে নর্দমা সংস্কার ও পরিস্কার পরিচ্ছনের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। ড্রেন সংস্কার করতে গিয়ে বাঁধ দেয়ার কারণে পানি জমে মশার বিস্তার ঘটছে দেখে প্রশাসক তাৎক্ষণিকভাবে মশার ওষুধ ছিটান এবং এর কার্যক্রম চলমান রাখার জন্য প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তাকে নির্দেশ প্রদান করেন। নগরীর সড়ক সমূহে অনুমোদনহীন গাড়ীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় তা বন্ধের দিকনির্দেশনা দিয়ে প্রশাসক বলেন, ইদানিং লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, অনুমোদনহীন এবং গ্রামাঞ্চলের গাড়ী নগরীতে প্রবেশ করে তীব্র যানজট ও সড়ক দূর্ঘটনা ঘটাচ্ছে। তাই এর প্রতিকারে এদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশ প্রশাসনকে অনুরোধ জানান তিনি। রাস্তার উভয় পাশের ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপানাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে অযাচিত পণ্য সামগ্রী রাখা থেকে বিরত থাকুন এবং দোকানের সামনে সবসময় পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন। তিনি নগরীর হাটহাজারী সড়কের ময়দার মিল এলাকায় ফুটপাতের উপর ঠেলাগাড়ী, ভ্যানগাড়ী ও মালামাল দেখে তাৎক্ষণিক সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন। অবস্থার পরিবর্তন না হলে আগামীকাল থেকে এ এলাকায় ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালিত হবে বলে এলাকাবাসীকে জানান তিনি। প্রশাসক অক্সাজেন মোড়ে পৌঁছালে সম্মিলিত ছাত্র সমাজের ব্যানারে ধর্ষকের বিচারের দাবীতে মানববন্ধন কর্মসূচি দেখে তাদের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করেন এবং ধর্ষনকারীদের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য ছাত্রসমাজসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান। প্রশাসক ধর্ষনকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবী জানান। তিনি আরও বলেন, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গিয়েছে। তাই সবাইকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলতে হবে। এছাড়া নিয়মিত মাস্ক পরিধান এবং সাবান দিয়ে বারেবারে হাত ধোয়ারও আহবান জানান তিনি। তাছাড়া মৌসুমগত কারণে এখন ডেঙ্গুর প্রভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে। ডেঙ্গু’র বিস্তার রোধে ডিসেম্বর পর্যন্ত মশক নিধন অভিযান অব্যাহত রাখার এবং যেখানে মশার উপদ্রব দেখা দিবে সেখানে মশক নিধন অভিযান পরিচালনা করারও নির্দেশনা দেন প্রশাসক। প্রসঙ্গক্রমে তিনি আরো বলেন, মাদক একটি আন্তর্জাতিক সমস্যা। এর সাথে যারা যুক্ত তাদেরকে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশে আইনের আওতায় আনা হবে। এ সময় প্রশাসকের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শফিকুল মান্নান সিদ্দিকীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ক্যাটাগরির আরো সংবাদ