বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০, ০১:৪৪ অপরাহ্ন

  • বাংলা বাংলা English English

নিয়মনীতির বালাই নেই, হাতুড়ে টেকনিশিয়ান দ্বারাই চলছে নড়াইলে ডায়াগনস্টিক সেন্টার-প্যাথলজি বাণিজ্য।
রিপোর্টার / ৪২৭ বার
আপডেট : বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০

নড়াইল সদর হাসপাতালে সামনে সর্বত্র রোগ নির্ণয়ের নামে সাইনবোর্ডসর্বস্ব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যাপক ছড়াছড়ি। বেশির ভাগ ডায়াগনস্টিক ও প্যাথলজি সেন্টারই গড়ে উঠেছে সরকারি অনুমোদন ছাড়া। ইচ্ছামতো নিয়ম-কানুন তৈরি করে বছরের পর বছর রমরমা বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে এরা। নেওয়া হচ্ছে ইচ্ছামাফিক ফি। হাতুড়ে টেকনিশিয়ানরা অনেক ক্ষেত্রেই দিচ্ছেন মনগড়া রিপোর্ট।

জানা যায়, চিকিৎসাবিদ্যায় অভিজ্ঞতাহীন পিয়াজ, আলু, ঢেউটিন ব্যবসায়ীদের গড়ে তোলা ডায়াগনস্টিক ও প্যাথলজি সেন্টারে হাতুড়ে টেকনিশিয়ান দিয়েই চলে রোগ নির্ণয়ের সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা। তারা মনগড়া রিপোর্ট তৈরি করে অহরহ ঠকাচ্ছেন নিরীহ মানুষকে। একই রোগ পরীক্ষায় একেকটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে একেক রকম রিপোর্ট দেওয়ারও অসংখ্য নজির রয়েছে। পুরুষের রিপোর্টে তুলে ধরা হয় মেয়েলি রোগের বিবরণ, উল্টো চিত্রও আছে। আবার একই ধরনের প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষার জন্য একেক প্রতিষ্ঠানে ধার্য আছে একেক ধরনের ফি। এসব রিপোর্ট নিয়ে রোগী ও স্বজনরা চরম বিভ্রান্তিতে পড়েন। তা সত্ত্বেও ডাক্তাররা নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সরবরাহকৃত স্লিপে টিক মার্ক দিয়ে টেস্ট করাতে রোগী পাঠিয়ে থাকেন। তারা সামান্য জ্বর, ঠান্ডা, কাশির জন্যও ডজন ডজন পরীক্ষা-নিরীক্ষার কথা লিখে দিচ্ছেন। আবার রোগী নিজের পছন্দের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে টেস্ট করালে ডাক্তার সে রিপোর্ট গ্রহণ করেন না। ডাক্তার তার নির্ধারিত সেন্টার থেকে রোগীকে আবার একই টেস্ট করিয়ে আনতে বাধ্য করেন। বেশি টাকা দিয়ে নির্ধারিত ডায়াগনস্টিক সেন্টারে টেস্ট করিয়েও সঠিক রোগ নির্ণয়ের নিশ্চয়তা পান না ভুক্তভোগীরা। কিন্তু ওই সেন্টারগুলো থেকে টেস্ট বাবদ দেওয়া কমিশন নিশ্চিত করার পরই ডাক্তার চিকিৎসাসেবা দিয়ে থাকেন। এভাবেই নড়াইল সরকারি হাসপাতালের রোগী জিম্মিকারী একশ্রেণির ডাক্তারের সহায়তায় ডায়াগনস্টিক সেন্টার মালিকদের যথেচ্ছ টেস্ট বাণিজ্য চলছে বছরের পর বছর। অভিযোগ তুলেও এসবের প্রতিকার মিলছে না।

অনুসন্ধানে জানযায় লাইসেন্সবিহীন ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্য রয়েছে- সদর উপজেলার
নড়াইল ডায়াগনস্টিক সেন্টার ,স্বাগত ডায়াগনস্টিক সেন্টার, গ্রীণ লাইফ ডায়াগনস্টিক সেন্টার, চিত্রা প্যাথলজিক্যাল ক্লিনিক, শেখ ডায়াগনস্টিক সেন্টার,
সন্ধানী প্যাথলজী, জামান ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ফ্যামিলি কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ল্যাব স্টার ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং ভিক্টোরিয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টার।

এব্যাপারে নড়াইলের সিভিল সার্জন ডা. মো. আবদুল মোমেন বলেন এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়ার জন্য জেলা প্রশাসককে চিঠি দিয়েছি।
জেলা প্রশাসক আনজুমান আরা বলেন,জেলা প্রশাসন লাইসেন্সবিহীন এসব প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ক্যাটাগরির আরো সংবাদ