বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০, ১১:৩৪ পূর্বাহ্ন

  • বাংলা বাংলা English English

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় ইউপি সদস্যের উপস্থিতিতে মহা-ধুমধামে বাল্যবিয়ে!
এ.বি.খান বাবু বার্তা প্রধান / ৬৮ বার
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০

বাল্যবিয়ে রোধে নানামুখী প্রচার প্রচারণার পাশাপাশি কঠোর অবস্থানে সরকার। বাল্যবিয়ের বিরুদ্ধে নিরলসভাবে কাজও করে যাচ্ছে মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসন। অপরদিকে করোনা সংক্রমণ এড়াতে জন-সমাগম এড়িয়ে চলার পক্ষে কাজ করে যাচ্ছে প্রশাসন।

এরই মধ্যে মহা-ধুমধাম করে শতাধিক লোকের উপস্থিতিতে সকল বিষয় তদারকি করে বাল্যবিয়ে সম্পন্ন করলেন মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার ধানকোড়া ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড মেম্বার মোনায়েম খান। বিষয়টি জানতে পেরে উপজেলা প্রশাসন বাল্যবিয়ের আনুষ্ঠানিকতা বন্ধ এবং উপযুক্ত বয়সের আগে বরের বাড়িতে কন্যা সম্প্রদান করতে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করেন। এ বিষয়ে কন্যার পরিবার থেকে নেয়া হয় মুচলেকা।

এসব বিষয়ের তোয়াক্কা না করে বাল্যবিয়ে সম্পন্ন করে কনেকে বরের হাতে তুলে শ্বশুরবাড়ি পাঠিয়ে দিলেন স্থানীয় ইউপি সদস্য। বিষয়টি নিয়ে এলাকা জুড়ে চলছে নানা ধরনের আলোচনা সমালোচনা। এসব বিষয়ে জানতে ইউপি সদস্যকে তলব করেছে উপজেলা প্রশাসন।

গতকাল শুক্রবার রাতে জেলার সাটুরিয়া উপজেলার ধানকোড়া ইউনিয়নের গোলড়া পূর্বপাড়া এলাকায় বাল্যবিয়ের এই ঘটনা ঘটে। একই ইউনিয়নের কাজীপাড়া কৈট্টা এলাকার মৃত কানাই মিয়ার ছেলে রিপনের সঙ্গে গোলড়া পূর্বপাড়া এলাকার অখিল মিয়ার মেয়ের বিয়ে সম্পন্ন হয়। শনিবার দুপুরে রিপনের বাড়িতে ধুমধামে চলছে বৌ-ভাতের অনুষ্ঠান।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে কনের ফুফাতো ভাই মজনু মিয়া বলেন, কনের বয়স এখনো ১৮ হয়নি। তবে ভালো ছেলে পাওয়ায় বিয়ে দেয়া হয়েছে। বিয়ে পণ্ড করে দেয়ার জন্য উপজেলা থেকে লোকজন আসলেও তারা চলে যাওয়ার পর কনেকে বরের হাতে তুলে দেয়া হয়। এসব বিষয়ে মোনায়েম মেম্বার তদারকি করেন বলেও জানান তিনি।

ধানকোড়া ৬ নং ওয়ার্ড মেম্বার মোনায়েম খান বলেন, সামাজিকতা রক্ষার জন্য স্থানীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মেম্বারদের যাওয়া লাগে। এছাড়া মেয়ের বয়স ১৮ বছরের কম হলেও মেয়েটি বিয়ের উপযুক্ত। তবে ইউএনও অফিস থেকে লোকজন আসার পর মেয়েকে ছেলের বাড়িতে না পাঠানোর জন্য তিনি অভিভাবকদের বলেছিলেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, বাল্যবিয়ে হলেই জেল দেয় জেলা প্রশাসন। বাল্যবিয়ের দায়ে বর-কনে ছাড়াও অভিভাবকদের জেল-জরিমানা করা হয়। তবে ইউএনও অফিস থেকে লোকজন আসার পরও বাল্যবিয়ে সম্পন্ন করলেন ওই মেম্বার নিজেই।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশরাফুল আলম বলেন, বাল্যবিয়ের খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন থেকে লোকজন পাঠানো হয়েছিল। প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার আগে কনেকে বরের বাড়ি পাঠাবে না বলে মুচলেকা দিয়েছে অভিভাবকরা। এছাড়া এ ঘটনার সঙ্গে স্থানীয় ইউপি সদস্য জড়িত থাকার বিষয়টি প্রমাণ হলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ছবি: প্রতিকী

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ক্যাটাগরির আরো সংবাদ