শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২০, ০২:৩১ পূর্বাহ্ন

  • বাংলা বাংলা English English

নাগরপুরে দূর্যোগ সহনীয় ঘর এনে দেয়ার জন্য সংখ্যালঘু পরিবারের কাছ থেকে টাকা নেয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে
মোঃ শহিদুল ইসলাম, নাগরপুর টাঙ্গাইল প্রতিনিধি / ১১১ বার
আপডেট : শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২০

টাঙ্গাইলের নাগরপুর সদর ইউনিয়নের পাইশানা ৮ নং ওয়ার্ডের হুমায়ুন মেম্বার এর বিরুদ্ধে দূর্যোগ সহনীয় ঘর এনে দেয়া জন্য দরিদ্র সংখ্যা লঘু গোপাল এর পরিবারের কাছ থেকে ৬০ হাজার টাকা নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে, উপজেলার পাইশানা গ্রামের গোপাল দাশ এর বাড়িতে গেলে তিনি বলেন, হুমায়ুন মেম্বার আমাকে এবং মেঝ ছেলে সহ তার স্ত্রী কে বলে ২৪ টিনের পাকা ঘর সাথে পাকা টয়লেট থাকে এমন ঘর এনে দেবো, যার দাম সাড়ে ৪ লাখ টাকা। এজন্য খয়-খরচ বাবদ ৬০ হাজার টাকা দিতে হবে। এভাবে মেম্বার সাহেব একাধিকবার বলায়, অনুমানিক ৬ মাস আগে (জানুয়ারী ২০২০) আমরা খুব কষ্ট করে বিভিন্ন জায়গায় থেকে দাদন ও সুদি (চড়া সুদে) টাকা গুলো জোগাড় করে মেম্বার সাহেবকে দেই। যার ১ শত টাকার ১ মাসের ৫ টাকা সুদ দেয়ার শর্তে টাকা জোগার করি। প্রতি ১ হাজার টাকায় মাসে ৫০ টাকা সুদ হারে টাকা গুলো সংগ্রহ করে দেই হুমায়ুন সাহেব কে।
কিন্তু যে ঘর দেয়ার কথা বলে টাকা নিয়েছিল তার চেয়ে অনেক ছোট একটা ঘরের কাজ শুরু করেছে ৪ দিন আগে।
গোপাল দাশ এর মেঝো ছেলে জাল বয়বসায়ী (জেলে) অমর্ত্য চন্দ্র দাস এর স্ত্রী বিমলা রানী দাশ এ বিষয়ে বলেন, ৩ কিস্তিতে হুমায়ুন মেম্বার ৬০ হাজার টাকা আমাদের বাড়িতে এসে নিয়ে গেছে, ২৪ টিনের ঘর এনে দেয়ার জন্য। কিন্তু যেমন ঘর দেয়ার কথা ছিল তেমন ঘর দেয়নি। খুবই ছোট একটা ঘরের কাজ শুরু করেছে ৪ দিন আগে।
হুমায়ুন মেম্বারের এভাবে টাকা নেয়া ভালো হয়েছে কি না? এমন প্রশ্নের উত্তরে বিমলা বলেন, কাজটা ভালো হয়ছে কি না, তা মেম্বারই ভালো জানে। কাজটা ভালো করেনি উদ্দেশ্যিই আমার কাপড়ে এতো ময়লা। আমারা কাছে তো ভালো হয় নাই। কাপড় চোপড়ে কি ময়লা এম্বাই। তাদের পরিবার এমন পরিস্থিতিতে কষ্টে আছেন কি না, আইনের চোখে মেম্বার দোষী কি না? এমন প্রশ্নের উত্তর বিমলা বলে, কষ্টের কথা কি আর কমু দাদা। একই তো কইলাম আমার কাপড়-চোপড়ে কি ময়লা এম্বাই? আমার কুনো দুঃখই নাই। আমার দুঃখ আল্লাহর কাছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নাগরপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য, ৮ নং ওয়ার্ডের মেম্বার হুমায়ুন মেম্বার বলেন, আমি গোপাল দাশের কাছ থেকে ঘর এনে দেয়ার জন্য কোন টাকা পয়াসা নেইনি। এ কথা বলেই মুঠোফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। পরে একাধিক বার তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে নাগরপুর উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার (পিআইও) আবু বকর বলেন, ইউনিয়নের পাইশানা গ্রামের গোপাল দাশের নামে ১টি ১ লাখ ২০ হাজার টাকার ঘর বরাদ্দ হয়েছে। এই ঘর গুলো জনপ্রতিনিধিদের দেয়া তালিকার উপর ভিত্তি করে যাচাই-বাছাই করে উপজেলা থেকে বরাদ্দ দেয়া হয়। তাই যদি কেউ ঘর দেয়ার জন্য কোন অর্থনৈতিক লেনদেন করে থাকে তবে তা অবশ্যই গুরুতর অপরাধ। হুমায়ুন মেম্বার ঘর দেয়ার কথা বলে টাকা নিয়েছে এ ধরনের কোন লিখত অভিযোগ আমাদের কাছে কেউ দেয়নি। তবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দেয়া দূর্যোগ সহনীয় ঘর দেয়ার কথা বলে যদি সে টাকা নিয়ে থাকে, তবে সে কাজটা অবশ্যই ভালো করেনি। অভিযোগ পেলে আমরা তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করব।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ক্যাটাগরির আরো সংবাদ