শুক্রবার, ২৩ এপ্রিল ২০২১, ০৬:০৭ পূর্বাহ্ন

  • বাংলা বাংলা English English

মানিকগঞ্জে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ছাত্রীকে গণধর্ষণ, গ্রেপ্তার এক
এ.বি.খান বাবু বিশেষ প্রতিনিধি / ৩২৪ বার
আপডেট : শুক্রবার, ২৩ এপ্রিল ২০২১

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার জামসা ইউনিয়নের বাস্তা গ্রামের প্রাইভেট শিক্ষক রহুল আমীন রুবেল(৩২) ছাত্রীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ভাগিয়ে নিয়ে ধর্ষণ করেছে।

আর এ ধর্ষণে যুক্ত করেছে তার দু’সহযোগিকে। নিজ এলাকা থেকে ছাত্রীকে মোটর সাইকেলে তুলে জেলা সদরের একটি বাসায় নিয়ে এ পাশবিক নির্যাতন চালানো হয় বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় ভিকটিমের পিতা বাদী হয়ে ৪ জনকে আসামী করে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলার ২নং আসামী ধর্ষণের প্রশ্রয়দাতা জমিলা খাতুন (৩৮) নামের এক নারীকে বুধবার (১৭ জুন) ভোরে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গ্রেফতারকৃত জমিলা মানিকগঞ্জ জেলা শহরের উত্তর সেওতা এলাকার জসিম উদ্দিনের স্ত্রী। সে ওই এলাকায় জনৈক নিলুফা বেগমের বাড়িতে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকে।

মামলার এজাহার ও নির্যাতিতা ছাত্রীর পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ভিকটিমের পরিবার উপজেলার বায়রা ইউনিয়নের বাইমাইল গ্রামের বাসিন্দা। তারা পরিবার নিয়ে উপজেলার জামসা ইউনিয়নের বাস্তা গ্রামে বাসা ভাড়া থাকেন। ওই গ্রামের চাঁন মিয়ার পুত্র ও এক সন্তানের জনক রুবেল ভিকটিম ও তার ছোট বোনকে প্রাইভেট পড়াতেন।

এ সুযোগে সে বড় বোনকে (১৪) প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিভিন্ন জায়গায় বেড়াতে যাওয়ার প্রস্তাব দিতো। গত ৯ জুন ভিকটিম তার দাদার বাড়ি বাইমাইলে বেড়াতে গেলে রুবেল মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে সেখান থেকে তার মোটরসাইকেলে তুলে জেলা শহরের উত্তর সেওতা এলাকায় কথিত খালা জমিলার বাসায় নিয়ে যায়। ওই বাসায় রুবেল তাকে ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে ওই বাসায় আটকে রেখে তার আরো দু’সহযোগীও ধর্ষণ করে।

ভিকটিমের মা জানান, ৩ দিন আটকে রাখার পর ওই বাসার মোবাইল নাম্বার থেকে তার মেয়ে ফোন দিয়ে বিস্তারিত জানায়। এলাকা থেকে লোকজন নিয়ে ওই বাসা থেকে মেয়েকে উদ্ধার করে প্রাইভেট ক্লিনিকে ভর্তি করেন তারা।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) ভিকটিমের পিতা বাদী হয়ে ৪ জনকে আসামী করে থানায় মামলা দায়ের করেন। বুধবার ভিকটিমকে মেডিক্যাল টেস্টের জন্য জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

মামলার প্রধান আসামী প্রাইভেট শিক্ষক রহুল আমীন রুবেল ধর্ষণের কথা অস্বীকার করে বলেন, আমি বাইমাইলে খালার বাড়ি বেড়াতে গেলে রাস্তায় মেয়েটাকে দেখতে পাই। তার ইচ্ছে অনুযায়ী মানিকগঞ্জ শহরের একটি বাসায় রেখে আসি।

এ ব্যাপারে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিংগাইর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ আবুল কালাম বলেন, ঘটনার মূলহোতা রহুল আমীন রুবেলের কথিত খালা মামলার ২ নং আসামী জমিলাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। বাকী আসামীদের গ্রেফতারের জোর চেষ্টা চলছে।
ছবি : প্রতিকি

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ক্যাটাগরির আরো সংবাদ