বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ০৭:০২ অপরাহ্ন

  • বাংলা বাংলা English English

মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে কোটি টাকা নিয়ে উধাও ২ এনজিও
এ.বি.খান বাবু বার্তা প্রধান / ৩৩৪ বার
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২১

মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার উলাইল গ্রামের কয়েকশো মানুষের কোটি টাকা নিয়ে উধাও হওয়ার অভিযোগ উঠেছে দুইটি এনজিও বিরুদ্ধে।

বেশি মুনাফার আশায় টাকা দিয়ে নিঃস্ব তারা। এনজিও কর্মকর্তাদের গ্রেফতার-শাস্তি ও টাকার দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন ভোক্তভোগীরা।

দৌলতপুর উপজেলার উলাইল গ্রামের শত শত নারী-পুরুষ বেশি মুনাফার আশায় কর্মমুখী সঞ্চয় ও ঋণ দান সমবায় সমিতি ও সততা সমবায় সমিতির কাছে লাখ লাখ টাকা আমানত রাখেন এলাকাবাসীরা। কিছুদিন আগে গ্রাহকদের আমানতকৃত টাকা নিয়ে অফিসে তালা দিয়ে উধাও হয়ে যায় তারা।

এ অবস্থায় টাকা ফিরে পেতে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২টার দিকে মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার উলাইল বাজারে এনজিও অফিসের সামনে বিক্ষোভ করেন তারা। দৌলতপুর-উলাইল অঞ্চলিক সড়কের তিন কি.মি. এলাকাজুড়ে বিক্ষোভ করেন তারা। পরে উলাইল বাজারে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালনও করেন তারা।

আটিয়া উলাউল গ্রামের মনোয়ারা বেগম জানান, এক লাখ টাকায় প্রতিমাসে ১৫শত টাকা পাওয়ার আশায় ৫ লাখ টাকা আমানত রাখেছিলাম কর্মমুখী সঞ্চয় ও ঋণ দান সমবায় সমিতির মালিক আরিফুলের এনজিওতে। কিছুদিন টাকা দেয়ার পর সে তার অফিস তালা দিয়ে রাতের আধারে পালিয়ে গেছে।
দৌলতপুরের গাজিছাউল গ্রামের আবুল কালামের স্ত্রী সেলিনা বেগম জানান, স্বামী হোটেলে সামান্য বেতনে চাকরি করায় বাড়তি আয়ের আশায় স্বজনদের কাছ থেকে ধার নিয়ে এক লাখ টাকা আরিফুলের এনজিওতে রেখেছিলাম। এরপর এনজিওতে মুনাফার টাকা আনতে গিয়ে দেখি অফিস তালা। ফোন দিলেও আরিফের নাম্বার বন্ধ পাচ্ছি।

উলাইল গ্রামের বেল্লাল জানান, চাকরি না পেয়ে ছোট একটি ব্যবসা করি। ভাই-বোনের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা এনে সুলতানের এনজিওতে রেখেছিলা। কয়েক মাস প্রতি লাখে ১৫শত টাকা করে মুনাফা দিয়ে অফিস তালা দিয়ে পালিয়ে গেছে। পরে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে সালিস করলেও সুলতান টাকা দেয়ার কথা বললেও তা দেয় নি। এখন তার ফোনও বন্ধ।

দৌলতপুর উপজেলার কলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন জানান, উপজেলাতে ব্যাঙের ছাতার মত এনজিও গড়ে উঠেছে। তারা আমার ইউনিয়নের সাধারণ জনগণকে বেশি মুনাফার লোভ দেখিয়ে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হয়ে গেছে। এরমধ্যে সুলতান মোল্লা, আরিফুল ইসলাম, সাত্তার মোল্লা, কুদরত আলী, শাহ আলম মিয়া বিভিন্ন নামে এনজিও খুলে মানুষের সাথে প্রতারণা করছে তারা। আমার ইউনিয়নের জনগণ ও ভোক্তভোগীরা আমাকে মৌখিকভাবে বলেছেন।
এসব এনজিওর রেজিস্ট্রেশন বাতিল ও শাস্তি কামনা করেন তিনি।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ক্যাটাগরির আরো সংবাদ