বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০, ০৮:৩২ অপরাহ্ন

  • বাংলা বাংলা English English

কিশোরগঞ্জ বিন্নাটি বাজারে চলছে রমরমা সুদের ব্যবসা ॥ নিঃস্ব সাধারন মানুষ
এম এ হান্নান পাকুন্দিয়া কিশোরগঞ্জ / ৩২ বার
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০

কিশোরগঞ্জ  সদর উপজেলার বিন্নাটি বাজার এলাকার একটি প্রভাবশালী মহলের চলছে রমরমা সুদের ব্যবসা। প্রতিমাসে হাজার-হাজার টাকা সুদ দিতে হয় সাধারণ মানুষকে। মাস শেষে সুদের টাকা দিতে না পারলে চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ বৃদ্ধি পায়। পরে না দিতে পারলে গাড়ি , গরু এমনকি ব‍্যাংক চেক পর্যন্ত লিখে দিতে হয় সুদ ব্যবসায়ীদের নামে। সুদ ব্যবসায়ীদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে এরই মধ্যে অনেকে গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এবং অনেকে আত্মহত্যারও হুমকী দিয়ে আসছেন। এ সুদের ব্যবসা কয়েক বছর ধরে চলছে উপজেলার কয়ারখালী,বিন্নাটি, কালটিয়া,টুটিয়িচর,জোগীরকালি চৌদ্দশত বাজারসহ বিভিন্ন গ্রামে। এদিকে সুদের টাকা নিয়ে এলাকার সাধারণ মানুষ নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন। আজ শুক্রবার সকালে সরেজমিনে গেলে ভূক্তভোগী পরিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেন ।

এলাকা ও ভূক্তভোগী পরিবার সুত্রে জানা গেছে, পাকুন্দিয়া উপজেলার চিলাকাড়া গ্রামের মুতাহার ছেলে রাসেল ডিসেম্বর 2019 ইং সালে ব‍্যবসা করার লক্ষ্যে বিন্নাটি বাজার স্বপন ছোয়া সঞ্চয় সমিতি থেকে এক লক্ষ্য টাকা সুদের উপর আনেন। পরে রাসেল কে প্রায় একলক্ষ পছাত্তার হাজার টাকা ফেরত দেওয়া জন্য চাপদেয়। সুদ ব্যবসায়ীদের এ দাবী কৃত টাকা পরিশোধ করার জন্য তাকে নিয়মিত হুমকী-ধামকী দিয়ে আসছে ওই সুদ ব্যবসায়ীরা। পরে সে উপায়অন্ত না পেয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। বর্তমানে তার পরিবারের নিয়ে অনাহারে-অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছেন। এদিকে কোদালিয়া গ্রামে পল্লী চিকিৎসাক মোহাম্মদ নুরুল্লা
নামের এক ব্যক্তি জানান, সুদ ব্যবসায়ীদের হাত থেকে গ্রামের সাধারণ মানুষকে রক্ষা করা জরুরি হয়ে পড়েছে। যদি কেউ বিপদে পড়ে ৫০ হাজার টাকা সুদে নেন, তাহলে পাঁচ মাস পর পাঁচ লাখ টাকা দিয়েও সুদ ব্যবসায়ীদের টাকা পরিশোধ হয় না। সুদ ব্যবসায়ীরা সাধারণ মানুষের অটো গাড়ি,মঠরসাকেল,সহ ব‍্যাংক চেক পর্যন্ত জোরপূর্বক লিখে নিচ্ছে। এরা এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি বলে ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।
ভূক্তভোগী স্ত্রী কান্না জরিত কন্ঠে বলেন, আমার স্বামী ব‍্যাবসা করার জন্য প্রায় ২০ হাজার টাকা সুদে আনছেন। তাদের 35 হাজার টাকা পরিশোধ করতে বলেন । কিন্তু তারা এখন তাদের টাকা পরিশোধ করতে না পাড়ায় আমার স্বামী বাড়ি থেকে চলে গেছে। কিন্তু এখন অনেকে বাড়িতে এসে আমাকে ও আমার সন্তানদের হুমকী দিয়ে আসছে। এখন আমাদের বাড়ি ছ্ড়া কোন উপায় নেই। এই সুদ সিন্ডিকেটের ওপর নজর দেয়ার জন্য প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের কাছে আমি দাবী যানাই। আমার স্বামীর মতো এর আগে অনেক চাপে এলাকা থেকে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে।
স্বপ্ন ছোঁয়া সঞ্চয় সমিতি
সিন্ডিকেট ব্যবসায়ী বলেন, আমরাতো ছোট ব্যবসায়ী আপনারা বড়-বড় সুদ ব্যবসায়ীদের ধরেন। তবে বিন্নাটি বাজার এলাকার ব‍্যবসায়ী নেতা নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক বলেন অনেক সালিস মিমাংসা আমরা করেছি। সুদের টাকা নিয়ে এলাকার সাধারণ মানুষ নিঃস্ব হয়ে পড়ছে। এবং সুদ ব্যবসায়ীদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে অনেকে গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন ও অনেকে আত্মহত্যারও হুমকী দিয়ে আসছে।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ক্যাটাগরির আরো সংবাদ