বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০, ০২:১৫ অপরাহ্ন

  • বাংলা বাংলা English English

মানিকগঞ্জে আর্সেনিক পরীক্ষা হয়না ২৩ বছর ধরে, আর্সেনিক আতঙ্কে এলাকার মানুষজন
এ.বি.খান বাবু বার্তা প্রধান / ৫৮ বার
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার সর্বত্রই আর্সেনিক ও আয়রন আতঙ্ক বিরাজ করছে। বর্তমানে এলাকার বিভিন্ন নলকূপের পানিতে অতিমাত্রায় আর্সেনিক পাওয়া যাচ্ছে। নিরাপদ পানির অভাবে মানুষ জেনে-শুনে আর্সেনিক বিষপান করে চলেছে।

স্থানীয় জনস্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বে-কর্তব্যে গাফলতির কারণে বিগত ২৩ বছর ধরে ঘিওরে আর্সেনিক পরীক্ষা করা হচ্ছে না। ফলে এলাকার হাজার হাজার লোকজন আর্সেনিকযুক্ত পানি পান করে আর্সেনিকসহ বিভিন্ন মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। আর্সেনিক আতঙ্কে এলাকার অনেক লোকজন নলকূপের পানি পান করা বন্ধ করে দিয়েছে।

ঘিওর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদপ্তর সূত্র জানা গেছে, ১৯৯৭ সালের প্রথম দিকে আর্সেনিক পরীক্ষার কার্যক্রম শুরু হয়। ১৭ মাসে মাত্র ১ হাজার ৩৩৪টি নলকূপের পানি পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার পর নলকূপগুলোর পানি যাতে কেউ পান না করে, সেজন্য কর্তৃপক্ষ প্রতিটি নলকূপের গায়ে লাল রংয়ের চিহ্ন দিয়ে দেয়। দীর্ঘদিন অতিবাহিত হবার পরও বাকি নলকূপগুলো পরীক্ষা করা হয়নি। ফলে এলাকার লোকজনের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

নব্বই দশকের আগে আর্সেনিক সম্বন্ধে মানুষের তেমন কোন ধারণা ছিল না। কিছু মানুষের ত্বক খসখসে, ঘা, চুলকানি এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে ক্ষত সৃষ্টি হওয়ায় চিকিৎসা করাতে গিয়ে আর্সেনিকের অস্তিত্ব ধরা পরে। বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় খবর প্রচারিত হলে দেশের মানুষ আর্সেনিকের সম্পর্কে ধারণা লাভ করে। নলকূপের প্রতি লিটার পানিতে শূন্য দশমিক পাঁচ মিলিগ্রাম আর্সেনিক থাকলে তা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর নয়। কিন্তু এর চেয়ে বেশি মাত্রায় আর্সেনিক থাকলে তা মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর।

উপজেলাতে কাগজে-কলমে বিভিন্ন ধরনের প্রায় ২ হাজার ৬শ নলকূপ আছে। এছাড়া ৭টি ইউনিয়নের বাসাবাড়িতে হাজার হাজার নলকূপ রয়েছে। দীর্ঘ ২৩ বছর যাবত এই সমস্ত নলকূপগুলোতে আর্সেনিক পরীক্ষা করা হয় না।

উপজেলা স্বাস্থ্য পঃ পঃ কর্মকর্তা ডাঃ সৌমেন চৌধুরী জানান, আর্সেনিকে আক্রান্ত রোগীদের প্রথমে হাত, পায়ে এমনকি শরীরে ফোসকা পড়ে কালো রং গোলাকৃত আকার ধারণ করে। পরীক্ষা নিরীক্ষা করে আর্সেনিকে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা হয়। আর্সেনিকযুক্ত পানি পান করলে যে কোন সময় একজন মানুষের লিভার সিরোসিস, জন্ডিস, কিডনি ডেমেজ, চর্মসহ নানা ধরনের জটিল ও কঠিন রোগ হতে পারে। কাজেই পরীক্ষা ছাড়া কোন নলূপের পানি পান করা নিরাপদ নয়।

জনস্বাস্থ্য উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ দবিরুল ইসলাম জানান, উপজেলাতে পাইপ লাইনের মাধ্যমে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা হলে এলাকার জনগণের সুবিধা হবে। আমি একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছি। তবে পর্যপ্ত উপকরণ না থাকায় আর্সেনিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। উপজেলার সব নলকূপগুলোতে আর্সেনিক আছে কিনা তা পরীক্ষা করার জন্য আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। অফিসে কেউ পানি নিয়ে আসলেও পরীক্ষা করে দেওয়া হয় এবং উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ক্যাটাগরির আরো সংবাদ