রবিবার, ১১ এপ্রিল ২০২১, ০৭:৫৩ পূর্বাহ্ন

  • বাংলা বাংলা English English

মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালের নার্স শাহীনের বিরুদ্ধে বহু অপকর্মর অভিযোগ
এ.বি.খান বাবু বার্তা প্রধান / ১৩১ বার
আপডেট : রবিবার, ১১ এপ্রিল ২০২১

মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স শাহীনুর রহমান শাহীনের বিরুদ্ধে বহু অনিয়ম ও অপকর্ম অভিযোগ উঠেছে। একের পর এক বেরিয়ে আসছে তার অপকর্মের নানা তথ্য।

হাসপাতালের নার্স, ফার্মাসিস্ট, ওয়ার্ড বয়, রোগী, রোগীর আত্নীয় স্বজন থেকে চিকিৎসক, সবাইকেই লাঞ্চিত হতে হয়েছে তার হাতে।

এ সমস্ত বিষয় নিয়ে বিভিন্ন সময় আপোষ -মীমাংসাও করেছেন হাসপাতাল কর্তৃপ। রেখেছেন অনেক অঙ্গীরকার নামা। তবে শাহীনের অপকর্ম বন্ধ করতে পারেননি তারা। তার বিরুদ্ধে নিতে পারেননি বিভাগীয় ব্যবস্থা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বছরের ২৫ মে হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স সাইফুল ইসলামকে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করে শাহীনুর রহমান। ওই দিনই বিষয়টি নিয়ে দরবারে বসেন হাসপাতাল কর্তৃপ। এ সময় শাহীন তার কৃতকর্মের দ্বায় স্বীকার করে মাফ চান। ভবিষ্যতে এরকম কোন কিছু করবেন না বলে অঙ্গীকার দেন। এর আগেও একাধিকবার স্টাফদের সাথে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে অঙ্গীকার নামায় উল্লেখ করেন। সে সময় অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর দেন হাসপাতালের আবাসিক কর্মকর্তা ডা. লুৎফর রহমান, ডা. রাজিব বিশ্বাস, নার্স সুপারভাইজার আনিছুর রহমান ভূইয়া, নার্স পারভীন আক্তার ও মোতালেব মিয়া।

অঙ্গীকার নামা দিলেও থেমে থাকেনি তার রাম রাজত্ব ও অপকর্ম। চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি শাহীনুরের হাতে লাঞ্চিত হতে হয় ফার্মাসিস্ট সেলিমুল হককে। নার্স হোসনে আরা, পারভীন, মোতালেব, ফার্মাসিস্ট লুৎফর ও পৌরসভার টিকাদানকারী শিউলীকেও লাঞ্চিত করেন শাহীন।

এমনকি শাহীনের কাছে অপমানিত হতে হয় হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার আরশ্বাদ উল্লাহকে।

নার্স সাইফুল ইসলাম বলেন, আমি দীর্ঘদিন জরুরি বিভাগের ইনচার্জ ছিলাম। গত বছরের ২৫ মে ট্রলিম্যানকে খুঁজে পাচ্ছিলাম না। সে সময় শাহীন এসে জানায়, সে ট্রলিম্যানকে জরুরি বিভাগ থেকে বের করে দিয়েছে। আমি প্রতিবাদ করি, আমি ইনচার্জ, আমার অনুমতি ছাড়া আপনি তাকে বের করে দিলে কেন? তখন সে আমাকে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করে।

নার্স হোসনে আরা বলেন, “নার্স সুপারভাইজার আনিছুর রহমান ভূইয়ার নির্দেশ অমান্য করায় আমি প্রতিবাদ করেছিলাম। এজন্য সে আমাকেসহ সকল নার্সকে হাসপাতাল থেকে বের করে দেবে বলে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে। আমি আল্লাহর কাছে বিচার দিয়ে রাখেছি।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নার্স শাহীনুর রহমান শাহীন বলেন, আমি সব সময় অন্যায়ের প্রতিবাদ করি, এজন্য অনেক সময় অনেকের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। তবে সেসব তুচ্ছ ঘটনা। তাৎণিকভাবে সেসব ঘটনার মিমাংসা হয়ে গেছে।

নার্স শাহীনের বিরুদ্ধে উল্লেখিত অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেন মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আরশ্বাদ উল্লাহ। তিনি বলেন, এর আগেও নার্স শাহীনুর রহমান শাহীন অনেককে লাঞ্চিত করেছেন। তার বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে উর্ধ্বতন কর্তৃপকে চিঠি দিয়েছি। নার্স শাহীনুর রহমান বদমেজাজী বলেও উল্লেখ করেন ডা. আরশ্বাদ উল্লাহ।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ক্যাটাগরির আরো সংবাদ