রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২০, ১০:২২ অপরাহ্ন

  • বাংলা বাংলা English English

কুলিয়ারচরে মোহাম্মদ আরীফুল ইসলাম নামে এক সংবাদকর্মীর বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ
মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি / ৫৯ বার
আপডেট : রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২০

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে সরকার অনুমোদনবিহীন অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও অনলাইন টিভি’র সংবাদকর্মী পরিচয়ধারী মোহাম্মদ আরীফুল ইসলাম নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও বিভিন্ন প্রকার অভিযোগ পাওয়া গেছে ।

জানা যায়, উপজেলার বড় ছয়সূতী গ্রামের মৃত মো. নাসির উদ্দিনের পুত্র মোহাম্মদ আরীফুল ইসলাম (চমক চঞ্চল) কখনো কবি, কখনো সাহিত্যিক, কখনো শিক্ষক, কখনো মানবাধিকার কর্মী আবার কখনো প্রথম শ্রেণীর জাতীয় দৈনিক যুগান্তর, দৈনিক আমাদের সময় ও দৈনিক বর্তমান পত্রিকার ( নিয়োগপ্রাপ্ত না হয়েও ) কুলিয়ারচর উপজেলা প্রতিনিধি দাবী করে মানুষের সাথে প্রতারণা করে চাঁদাবাজি ও ধান্দাবাজী করে আসছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এসব নামী-দামী পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করে দেওয়ার কথা বলে আরীফুল ইসলাম মানুষের নিকট থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এবং যে কোন ঘটনায় প্রতিপক্ষকের নামে মিথ্যা নিউজ করার ভয় দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা চাঁদা দাবী করা নতুন কোন ঘটনা নয় তার । এছাড়া মোবাইল কোর্ট করিয়ে টাকা জড়িমানা করানোর ভয় দেখিয়ে ও টাকা দাবী করেছে সে। কেউ কেউ তার চাহিদা মতো টাকা দিয়ে দিলে কোন প্রকার নিউজ করছে না। আবার কেউ যদি তার চাহিদা মতো টাকা না দেয় তাহলে মিথ্যা গল্প সাজিয়ে সরকার অনুমোদনবিহীন টিভি চ্যানেল ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে মিথ্যা নিউজ করে মানুষকে হয়রানী করে আসছে । তার কর্তৃক হয়রানীর শিকার হয়ে কেউ যদি কোন সাংবাদিক দ্বারা তার নিউজের প্রতিবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করায় তাহলে ওই সাংবাদিককে বিভিন্ন কৌশলে হুমকী দিয়ে আসছে সে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে ইনডাইরেকলী বিভিন্ন লিখা পোস্ট করে প্রকৃত সাংবাদিকদের মান সন্মান নষ্ট করে আসছে।

উপজেলার রামদী ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের দু’বারের সফল মেম্বার মো. লায়েছ মিয়া বলেন, আরীফুল ইসলাম স্থানীয় এক সাংবাদিককে সাথে নিয়ে তার এলাকায় এসে তার প্রতিদ্বন্দ্বী কতিপয় কিছু নেতার নিকট থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে ভাইস্ট হয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অনলাইন পল্লী টিভিতে তার বিরুদ্ধ একটি সংবাদ প্রকাশ করে তার মান সন্মান ক্ষুন্ন করেছে । এ নিউজের প্রতিবাদ করায় কুলিয়ারচর অনলাইন প্রেসক্লাব এর এডমিনকে বিভিন্ন প্রকার হুমকী দিয়ে আসছে। তিনি এ ঘটনার প্রতিবাদে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করবে বলে জানান।

কুলিয়ারচর অনলাইন প্রেসক্লাবের এডমিন মো. জসিম উদ্দিন বলেন, তাদের পেইজে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ করায় তাকে বিভিন্ন প্রকার হুমকী দেয় আরীফুল ইসলাম।

সম্প্রতি কোরবানী ঈদের সময় আরীফুল ইসলাম এক সাংবদিককে সাথে নিয়ে ডুমরাকান্দা গরুর বাজার থেকে ১হাজার টাকা চাঁদা নিয়েছে বলে জানা যায়।

মধ্য সালুয়া গ্রামের মো. নাদিম বলেন, তাদের বাড়ির একটি মারামারির ঘটনায় নিউজ করে দেওয়া কথা বলে তার নিকট থেকে টাকা নিয়ে কোন পত্রিকায় কোন প্রকার নিউজ প্রকাশ করাননি সে।

পৌর এলাকার আশ্রবপুর মহল্লার এক নারী বলেন, তার বাড়ির একটি গণধর্ষণের ঘটনায় সাংবাদিকদের নিয়ে ধর্ষিতার বাড়িতে এসে ধর্ষিতা ও ধর্ষিতার পরিবারের সদস্যসহ তার বক্তব্য রেকর্ড করে নিলেও টাকা দিতে না পারায় গণধর্ষণের আসামীর নিকট থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে ধর্ষণের আসামীর পক্ষে সংবাদ প্রকাশ করেছে এবং ধর্ষণের নিউজের সাথে উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে তার মান সন্মান নষ্ট করার জন্য ধর্ষিতার পরিবর্তে তার একটি ছবি সংযুক্ত করে যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করে তার মান সন্মান নষ্ট করে।

উপজেলার একাধিক সাংবাদিক বলেন, সরকারী ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে কোন প্রকার বিজ্ঞাপন হাতিয়ে নিতে না পারায় ওই সংবাদকর্মী আরীফুল ইসলাম কুলিয়ারচর উপজেলার প্রকৃত সাংবাদিকদের মান সন্মান ক্ষুন্ন করার লক্ষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তার ব্যক্তিগত আইডি থেকে একটি লিখা পোষ্ট করেছে। এতে সে লিখেছে ” সম্প্রতি কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে সাংবাদিকদের চেয়ে সাংঘাতিক (হলুদ সাংবাদিক) দের দৌড়-ঝাপ ও চাঁদাবাজির পরিমান বৃদ্ধি পেয়েছে। যার ফলে সংবাদ ও সাংবাদিকতা থেকে আস্থা হারিয়ে ফেলেছে জনগণ। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে গোপন তথ্য ফাঁস করার নাম করে আদায় করে নিচ্ছে অর্থ। এছাড়া এ জাতীয় হলুদ সাংবাদিকরা কিছু কিছু অবৈধ স্থান থেকে উৎকোচ নিয়ে যাচ্ছে নিয়মিত। কেউ কেউ আবার বিজ্ঞাপন ব্যবসার জন্য প্রশাসনের কর্মকর্তা- কর্মচারীদের নিয়মিত তেল মেরে যাচ্ছে। যার ফলে প্রশাসন নানা দূর্নীতি করার সাহস পাচ্ছে। তার এ লিখায় নির্ধারিত কোন সাংবাদিকের নাম উল্লেখ না করায় এ পোস্ট থেকে বুঝা যাচ্ছে যে সে ব্যতিত কুলিয়ারচরের সকল সাংবাদিক এসব অবৈধ কর্মকান্ডের সাথে জড়িত এবং কুলিয়ারচরের প্রশাসন নিয়মিত দূর্নীতি করে আসছে। প্রশাসনের কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও অপরাধীদের অবৈধ কাজকর্মের ঠিকানা ও অপরাধের সাথে জড়িত সাংবাদিকদের নাম ওই সংবাদকর্মী মোহাম্মদ আরীফুল ইসলান নিশ্চয় জানেন । নিশ্চিত না হলে সাংবাদিক মহলের বিরুদ্ধে এ ধরনের মানহানীকর লিখা পোস্ট করতেননা সে। নিজেকে ধোয়া তুলসী পাতা দাবী করে নিজের অপরাধ ঢাকতে তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে এধরনের পোস্ট করে যাচ্ছে নিয়মিত। তাই আমরা আশা করবো ওই সংবাদকর্মীকে সাথে নিয়ে অপরাধের সাথে জড়িত সাংবাদিক ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনবে প্রশাসন। যদি সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কোন প্রকার অপরাধ প্রমাণ না করতে পারে তাহলে ওই সংবাদকর্মী মোহাম্মদ আরীফুল ইসলামের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে সাংবাদিকদের মানহানি করার অপরাধে মামলা করা হবে।

ভূক্তভোগীরা ওই প্রতারক সংবাদকর্মী আরীফুল ইসলামের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা করেন।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ক্যাটাগরির আরো সংবাদ