মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল ২০২১, ১২:১৭ পূর্বাহ্ন

  • বাংলা বাংলা English English

মানিকগঞ্জ হাসপাতালে কর্তব্যরত অবস্থায় নার্সিং কর্মকর্তা শাহীনুর রহমানকে মারধর
এ.বি.খান বাবু বার্তা প্রধান / ১১২ বার
আপডেট : মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল ২০২১

মানিকগঞ্জ জেলা হাসপাতালে কর্তব্যরত অবস্থায় নার্সিং কর্মকর্তা শাহীনুর রহমানকে বহিরাগতরা মারধর করেছে।

গত মঙ্গলবার দুপর সাড়ে ১২টার দিকে হাসপাতালটির জরুরী বিভাগের সামনে এই ঘটনা ঘটে।

জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘আমি জরুরী বিভাগে রোগী দেখা অবস্থায় বাঁচাও বাঁচাও চিৎকারের আওয়াজ পাই। আমাদের লোকজন কক্ষের বাইরে গিয়ে দেখতে পায় নার্সিং কর্মকর্তা শাহীনুর রহমানকে ১৫-২০জন যুবক মারধর করছে। তাঁকে মারধরের হাত থেকে বাঁচাতে গিয়ে হাসপাতালের দুই নারী ট্রলিম্যানও আঘাতপ্রাপ্ত হয়। তাঁকে সেখান থেকে উদ্ধার করে জরুরীবিভাগের ভিতরে আনার পরও তারা মারধর করতে থাকে। জরুরী বিভাগের অগ্নিনির্বাপক সিলিন্ডার খুলে সেটা দিয়ে আঘাত করে এবং কক্ষের আসবাবপত্র ভাংচুর করে। এক পর্যায়ে তারা তাঁকে টেনে-হেচড়ে তুলে নিয়ে যেতে চেষ্টা করে। কিন্তু হাসপাতালের কর্মকর্তা কর্মচারীরা সেখানে চলে আসলে তারা চলে যায়।’

আহত নার্সিং কর্মকর্তা শাহীনুর রহমান বলেন, ‘আমি তত্তাবধায়ক স্যারের কক্ষে আমাদের বিল-ভাতা নিয়ে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটরের সাথে কথাবার্তা বলছিলাম। হঠাৎ সেখানে মোতালেব হোসেন নামের একজন নার্স উপস্থিত হয় এবং আমাকে গালিগালাজ করতে থাকে। আমাদের তত্বাবধায়ক স্যার এ বিষয়ে তাৎক্ষনিক সমাধান দিলে আমি সেখান থেকে বের হয়ে জরুরী বিভাগে যাই। সেখানে যাওয়ামাত্র মোতালেব হোসেনের ছেলে তন্ময় এবং আরো ১৫-২০জন আমাকে কিল-ঘুষি-লাথি মারতে শুরু করে। বাঁচার জন্য আমি চিৎকার করতে করতে নীঁচে পড়ে যাই।এক পর্যায়ে তারা আমাকে টেনে হিচড়ে হাসপাতালের বাইরে নিয়ে যেতে চায়। আমি কলাপসিবল গেট জড়িয়ে ধরে থাকি। খবর পেয়ে হাসপাতালের কর্মচারীরা এগিয়ে এসে আমাকে তাদের হাত থেকে রক্ষা করে।’

হাসপাতালটির তত্ত্বাবধায়ক ডা. আরশ্বাদ উল্লাহ বলেন, ‘ দুপুর ১২টার দিকে নার্সিং কর্মকর্তা শাহীনুর রহমান এবং মোতালেব হোসেনের সাথে আমার কক্ষে ঝগড়া-ঝাটি হয়। আমি তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান করে দেই। কিন্তু এর কিছুক্ষণ পর আমাদের লোকজন আমাকে খবর দেয় শাহীনুর রহমানকে মারধর করা হচ্ছে। আমি দ্রুত বিষয়টি পুলিশ সুপারকে অবহিত করি। ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যেই মানিকগঞ্জ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ভাস্কর সাহা হাসপাতালে আসেন। হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রতিবাদ জানায় এবং কর্মবিরতি করতে চায়। আমি তাদেরকে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থার আশ্বাস দিলে তাঁরা কাজে যোগদান করেন।’

এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিযেছেন হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাঁর ওপর হামলাকারী এবং হামলার ইন্ধনদাতার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী করে তাঁরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক কর্মকর্তা কর্মাচারী বলেন, সহকারী নার্স মোতালেব হোসেন কখনও তার দায়িত্ব পালন করে না। সরকার দলীয় নাম ভাঙ্গিয়ে চলে। বিভিন্ন ক্লিনিকের সাথে জড়িত থেকে অবৈধ ব্যবসা করছে। হাসপাতালে রোগীদের বিভিন্ন ক্লিনিকে নিয়ে যান। স্লিপে চিকিৎসকদের স্বাক্ষর নিয়ে প্রতিদিন হাসপাতাল থেকে সরকারী ওষুধ নিয়ে যায়। কেউ প্রতিবাদ করলে তাঁদের নানাধরণেরে হুমকীও দেয়। তার ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। হাসপাতালের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে তাকে অবিলম্বে এখান থেকে অন্যত্র বদলী করার দাবীও করে তাঁরা।

মানিকগঞ্জ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ভাস্কর সাহা বলেন, ‘হামলার খবর পেয়ে আমি দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রেণে আনতে সক্ষম হই। হামলার ঘটনায় আহত নার্সিং কর্মকর্তার লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোন সমস্যা থাকলে সেটা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন। আমরা হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। সে যেই হোক কোন ছাড় নেই।’

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ক্যাটাগরির আরো সংবাদ