শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২০, ০৭:০০ অপরাহ্ন

  • বাংলা বাংলা English English

রাজশাহীর পুঠিয়ায় হাটে খাজনার নামে আদায় হচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ
স্টাফ রিপোর্টার খোরশেদ আলম / ৪৬ বার
আপডেট : শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২০

রাজশাহীর পুঠিয়া ঝলমলিয়া হাটে খাজনা আদায়ের নামে ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিকট থেকে মাত্রারিক্ত টাকা নিচ্ছে ইজারাদার। ব্যবসায়িদের অভিযোগ, ইচ্ছেমত অর্থ হাতিয়ে নিতে ইজারদার সার্বক্ষণিক পৌরসভার সাথে বিশেষ যোগাযোগ রাখছে। যার কারণে পৌরসভা খাজনার মূল্য তালিকা ও রশিদ প্রদানের বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এতে করে হাটে আসা ক্রেতা-বিক্রেতা উভয় ইজারদারের নিকট জিম্মি হয়ে পড়েছেন।

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, পৌর এলাকার বৃহৎ ঝলমলিয়াহাট চলতি বাংলা সনের জন্য মোট ৩৫ লাখ ৪২ হাজার ৩০০ টাকায় ইজারা নেন কানাইপাড়া এলাকার নজরুল ইসলাম এহিয়া। পরবর্তিতে তিনি ইনছার আলী নামে এক সাব ইজারদারের নিকট হাট বিক্রি করে দেন।

সরেজমিনে হাট ঘুরে দেখা গেছে, হাটে খাজনা আদায়ের জন্য কোথাও কোনো মূল্য তালিকা দেয়া নেই। স্থানীয় কিছু লোকজন ইজারদারের নিকট থেকে হাটের প্রতিটি স্থান সাব লীজ নিয়ে আলাদা ভাবে খাজনা আদায় করছে।

প্রতিমণ সবজিতে আদায় করা হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা, ধান-গম প্রতিমণ ২০ থেকে ৩০ টাকা, হাঁস-মুরগি প্রতিটি ১৫ টাকা, হাটে আগত প্রতিটি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে ৫০ টাকা আর মাছ ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে ১২০ টাকা হারে খাজনা নেয়া হচ্ছে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিকট থেকে খাজনা নিলেও তাদের কোনো রশিদ দেয় না। হাটে আগতরা বিষয়টি পৌরসভা ও উপজেলা প্রশাসনকে একাধিকবার অবহিত করেও তার কোনো সুফল পাচ্ছেন না।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, সপ্তাহে প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবার ঝলমলিয়া হাট বসে। সরকারি নিয়ম অনুসারে হাটের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে পণ্যের নাম তালিকা ও খাজনার পরিমাণ উল্লেখ করে সাইনবোর্ড দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। অথচ পৌরসভার গাফলতির কারণে এই হাট ইজারাদার কোনো প্রকার নিয়মনীতি মানছেন না।

ব্যবসায়ীরা আরও বলেন, আবার খাজনা আদায় করা হলেও তারা আমাদের কোনো রশিদ দেয় না। যার কারণে ইজারদার তার ইচ্ছেমত জোরপূর্বক খাজনার নামে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। মাঝে মধ্যে কাঁচামালের বাজার চড়া হলে খাজনার পরিমাণ আরো বেড়ে যায়।

তবে হাটের বর্তমান ইজারদার ইনছার আলী বলেন, এই হাটে গত ২০ বছর থেকে মূল্য তালিকা কিংবা রশিদ লাগে না। আমরা নিয়ম মাফিক হাটে খাজনা আদায় করি। এ বছর স্থানীয় কিছু লোকজন হাটে রাজনৈতিক প্রভাব খাটাতে ষড়যন্ত্র করছে।

এ বিষয়ে পুঠিয়া পৌরসভার মেয়র রবিউল ইসলাম রবি বলেন, হাট ইজারা দেয়ার প্রথম শর্তই থাকে পণ্যর নাম উল্লেখ করে খাজনার তালিকা বিভিন্ন স্থানে লাগানো। আর অতিরিক্ত খাজনা আদায় হচ্ছে এমন কোনো বিষয়ে কেউ আমাকে জানায়নি। তবে বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখবো।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওলিউজ্জামান বলেন, ঝলমলিয়া হাটে অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের বিষয়টি আমি শুনেছি। ইতিমধ্যে আমি পৌরসভাকে অবহিত করেছি। আর তাদের বলা হয়েছে হাটে খাজনার মূল্য তালিকা লাগিয়ে রশিদের মাধ্যমে খাজনা আদায় করতে। অন্যথায় আমরা অচিরেই আইনী ব্যবস্থা নিব।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ক্যাটাগরির আরো সংবাদ