রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ০৩:৫৭ অপরাহ্ন

  • বাংলা বাংলা English English

কুলিয়ারচরে ফের সেলিম মাস্টারের বিরুদ্ধে এক স্কুল ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ! বিচার দাবীতে এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল
রিপোর্টার / ৬৬ বার
আপডেট : রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২১

কোভিট-১৯ করোনা ভাইরাস সংক্রমণ আতংকে মানুষ এখন দিশেহারা। সরকারী নির্দেশে সারা দেশের স্কুল-কলেজে পাঠদান সহ প্রাইভেট কোচিং-এ পড়ানো সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করা হলেও সরকারী নির্দেশ অমাণ্য করে প্রাইভেট পড়ানোর অযুহাতে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার ৪৩ নং দড়িগাঁও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ সেলিম মিয়া উপজেলার পূর্ব আব্দুল্লাপুরস্থ তার নিজ বাড়িতে একটি প্রাইভেট কোচিং সেন্টারে ডেকে নিয়ে এক ৫ম শ্রেণীর ছাত্রীকে পড়ানোর নাম করে যৌন নির্যাতন করেছে বলে ফের অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনার প্রতিবাদে ও বিচার দাবীতে এলাকাবাসী সোমবার (১৫ জুন) রাত ৭টার দিকে স্থানীয় মুজরাই মোড় বাজার রাস্তায় বিক্ষোভ মিছিল বের করে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,গত বৃহস্পতিবার (১১জুন) সকালে দড়িগাঁও গ্রামের এক নিরীহ ব্যক্তির কন্যা দড়িগাঁও সরকারী প্রথমিক বিদ্যালয়ে পড়ুয়া ৫ম শ্রেনীর ছাত্রী (১২) প্রতিদিনের ন্যায় ওই সেলিম মাস্টারের বাড়ীতে প্রাইভেট পড়তে যায়। প্রাইভেট রুমে কেউ না থাকায় সুযোগ বুঝে লম্পট শিক্ষক ওই ছাত্রীকে জোরপূর্বক যৌন নির্যাতন করে।

এ ঘটনা দড়িগাঁও এলাকায় জানা-জানি হলে এলাকাবাসীর মাঝে চরম উত্তেজনা বিরাজ করে। এ নিয়ে এলাকার যুব সমাজ এলাকায় লম্পট সেলিম মাস্টারের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল বের করে।

বিক্ষোভ মিছিল শেষে এলাকাবাসী বলেন, একজন প্রধান শিক্ষকের চরিত্র যদি এমন হয় তাহলে শিক্ষার্থীদের কি শিখাবে। একবার, দুইবার নয়, বারবার তিনি এমন কান্ড ঘটাইতেছেন এবং বারবার টাকার জোরে পার পেয়ে যাচ্ছেন। এটা আর হতে দেওয়া যায় না। আজ এই লম্পট সেলিম মাস্টারের বিচার না হলে আগামী দিনে অন্য আরো একটি স্কুল পড়ুয়া কোমলমতি শিশু তার কর্তৃক যৌন নির্যাতনের শিকার হবে৷ এটি আপনার আমার আদরের মেয়ে কিংবা বোনটি ও হতে পারে।

এ নিয়ে সেলিম মাস্টারের বিরুদ্ধে একাধিক স্কুল ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এমনকি তার বিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলাও হয়েছে।

টাকার কাছে দুনিয়া অচল। তাই মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে স্থানীয় প্রভারশালী মাতব্বরদের সহযোগীতায় ও ছত্র ছায়ায় এসব ঘটনা ধামাচাপা দিয়ে আসছে লম্পট সেলিম মাষ্টার। যে কারণে কখনো তার বিচার করতে পারেনি ভূক্তভোগীরা।

এলাকায় গুঞ্জন রয়েছে, লম্পট সেলিম মাস্টার দড়িগাঁও গ্রামের বর্তমান মেম্বার নিজাম উদ্দিন এবং দড়িগাঁও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সদস্য মোঃ কামরুল ইসলাম ও একটি সরকারী হাসপাতালের কর্মচারী মোঃ রফিক মিয়ার মাধ্যমে টাকা পয়সা দিয়ে উক্ত ঘটনাও ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালায়। কিন্ত ধর্ষিতা ছাত্রীর পরিবার প্রভাবশালীদের চাপের কাছে মাথা নত না করে সকলকে বিষয়টি অবহিত করেন। অতীতের ধর্ষণের ঘটনার মতো এ ঘটনাও ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে সেলিম মিয়া।

এ ব্যাপারে সোমবার বিকালে সরেজমিনে স্কুল ছাত্রীর নানার বাড়িতে গিয়ে কথা হয় ছাত্রীর নানী ও খালা সহ অনেকের সাথে। তারা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে লম্পট শিক্ষক সেলিমের ফাঁসী দাবী করেন।

বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও সালুয়া ইউপি সাবেক মেম্বার মোঃ মহুর উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, সেলিম মাস্টার তার উপস্থিতিতে ঘটনার কথা স্বীকার করে ছাত্রীর পরিবারের নিকট ক্ষমা চেয়েছেন এবং এক মাসের মধ্যে আবেদন করে এ বিদ্যালয় থেকে অন্যকোন বিদ্যালয়ে চলে যাবে ও আর কোনদিন প্রাইভেট পড়াবেনা এমন ওয়াদা করেন।

এলাকাবাসী, এ ঘটনা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দাবী করেন।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ক্যাটাগরির আরো সংবাদ