মঙ্গলবার, ০২ মার্চ ২০২১, ০১:১৭ অপরাহ্ন

  • বাংলা বাংলা English English

প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে গায়ে এসিড ঢেঁলে থানায় মামলা করে সুদ ব্যবসায়ী গৃহবধু তানিয়া,প্রতিবাদে মানববন্ধন
উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধিঃ / ৬৮ বার
আপডেট : মঙ্গলবার, ০২ মার্চ ২০২১

নড়াইলে নিজের গায়ে এসিড ঢেলে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর জন্য উঠেপড়ে লেগেছে এক সুদে ব্যবসায়ী গৃহবধু,ওই গৃহবধুর নাম তানিয়া বেগম (২৭),তিনি নড়াইল জেলার সদর উপজেলাধীন বাহিরগ্রামের মৃত গোলাপ মোল্যার মেয়ে।

জানা গেছে, তানিয়া একজন ধুরন্ধর প্রকৃতির নারী,সুদে ব্যবসা তার মূল পেশা,এছাড়াও বিভিন্নভাবে মানুষকে ফাঁসিয়ে তাদের নিকট থেকে অর্থ আদায় করার একাধীক অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
সম্প্রতি একই গ্রামের নিরীহ যুবক জুয়েল মোল্যা তার নিকট থেকে টাকা ধার নিয়ে দিচ্ছে না বলে এলাকায় প্রচার করে বেড়ায়,এছাড়াও জুয়েল ও তার স্বজনদের বিরুদ্ধে চেক জালিয়াতির অভিযোগও করেছে নড়াইল সদর থানায়।
এতো কিছুর পরও জুয়েল কে ফাঁসাতে না পেরে ভিন্ন পথে পা বাড়ান ছলনাময়ী সুদে কারবারী নারী তানিয়া।

গত ১৩ আগস্ট নড়াইল সদর থানায় জুয়েল ও তার স্বজনরা তাকে এসিড ছোঁড়ার হুমকি দিচ্ছে মর্মে একটি মিথ্যা সাধারণ ডায়রী লিপিবদ্ধ করেন।
এর আগেও নড়াইল সদর থানায় ১৫ থেকে ১৬ লাখ টাকা জুয়েল কে ব্যবসার জন্য ধার দিয়েছে কিন্তু জুয়েল সেই টাকা ফেরত দেয় না মর্মে থানায় অভিযোগ করে জুয়েল কে আসামি করে এক রাত হাজত খাটান পরে স্বজন”রা জুয়েল কে থানা হতে বের করে আনেন, এরপর মিথ্যা জিডিকে নাটকীয় পরিবেশে আনার জন্য ১৭ আগস্ট রাতের অন্ধকারে মৃদু এসিডযুক্ত ব্যাটারির পানি নিজের শরীরে ঢেলে দিয়ে নিরীহ যুবক জুয়েল ও তার স্বজনদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন।

এ ঘটনার পর ১৮ আগস্ট তানিয়ার বড় বোন মিনি বেগম বাদী হয়ে ৭ জনকে আসামি করে নড়াইল সদর থানায় একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন।
এদিকে মিথ্যা এ অভিযোগে ইতোমধ্যে তিনজন নিরীহ ব্যক্তি পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।

এ বিষয়ে বাহিরগ্রামের একাধিক ব্যক্তির সাথে কথা হলে তারা জানান, তানিয়া খুবই ধুরন্ধর এবং বেপরোয়া একজন ছলনাময়ী নারী।
তার খপ্পরে পড়ে অনেকেই সর্বশান্ত হয়ে গেছে,নিজের রূপ-সৌন্দর্যকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে অনৈতিক সুবিধা আদায় করে সে।
তাছাড়াও লোকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও অভিযোগ করে তার নিকট থেকে টাকা আদায় করে নেওয়া তার মূল পেশা।

ওই এলাকার ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন জানান, সম্প্রতি তানিয়া যে ঘটনার জন্ম দিয়েছে তা সম্পূর্ণ নাটকীয়।
জুয়েল ও তার পরিবারের কাছ থেকে টাকা আদায় করার জন্য সে নিজের গায়ে এসিড ঢেঁলে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে।
স্থানীয় সুত্রে আরো জানাযায়,তানিয়া ও বড় বোন মিনি দুজনে মিলে গ্রামে দাদোন ও সুদে করে টাকা লাগান এবং ধাইনো করে টাকা লাগান যেমন ১ হাজার টাকায় এক সিজেনে ১ মন ধাঁন দিতে হবে বলে টাকা লাগান।
এমন করে চলে দুই বোনের সুদে কারবারীর ব্যবসা যদি কেউ সঠিক সময় মত সুদের টাকা এবং দাদনের ধাঁন না দিতে পারে তখনি সুরু হয় হামলা,মামলা তাতেও না হলে নিজেকে জড়িয়ে বলে ওমুক আমার গায়ে হাত দিছে মর্মে অপবাদ দিতেও পারদর্শি তানিয়া ও মিনি।
এদিকে স্থানীয় গ্রামবাসি আরো জানান, তানিয়া রুপযৌবন দেখিয়ে এক এক করে ৩ টি বিবাহ্ করে এবং এক এক করে দুজনের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা দেনমোহর নিয়ে তাদের ছেড়ে দেন।
যশোর নোয়াপাড়ায় ব্যবসা করে তানিয়ার ৩ নাম্বার স্বামী তাকে নিয়েও সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন তানিয়া যে তার স্বামী তাকে কোন সংসার খরচ বাবদ টাকা পয়সা দেন না।
তানিয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে তানিয়ার স্বামীর মুঠোফোন কল করলে তিনি জানান,আমি নোয়াপাড়ায় ব্যবসা করি সব সময় বাহিরগ্রাম যেতে পারিনা তানিয়া মাঝে মধ্যে নোয়াপাড়া আসে এবং আমি সপ্তাহে একদিন বাহিরগ্রামে যায় এবং আমার স্ত্রী তানিয়ার সকল প্রকার খরচ আমি দিয় থাকি বলেও জানান।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী জুয়েলের স্বজনরা জানায়,তানিয়া আমাদের শায়েস্তা করার জন্য আমাদের বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যা জিডি করেছিল।
কিন্তু তাতে কোনো লাভ না হওয়ায় নিজেই নিজের গায়ে এসিড ঢেলে আমাদের বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে।
পুলিশি তদন্তে সঠিক তথ্য উঠে আসবে বলেও তারা দাবি করছেন।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ক্যাটাগরির আরো সংবাদ