বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০, ০১:২৪ পূর্বাহ্ন

  • বাংলা বাংলা English English

নড়াইলে কালের বিবর্তনে ভালোবাসার স্মৃতিবিজড়িত ডাকঘর গুলো বিলিনের পথে !!
উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধিঃ / ৩২ বার
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০

নব্বই দশকে যখন বাংলাদেশের মানুষের হাতে প্রযুক্তির ছোঁয়া লাগেনি তখন দূর-দূরান্তের আত্নীয়-স্বজন,ভালোবাসার মানুষগুলোর কাছে মনের কথা ব্যক্ত করার জন্য,শোক কিংবা আনন্দের কথা বার্তা আদান-প্রদান এর জন্য ডাকঘরই ছিলো একমাত্র বিশস্ত যোগাযোগ মাধম্য।
তবে কালের পরিক্রমায় ডিজিটাল প্রযুক্তির ছোয়াঁয় আজ প্রবাসে কিংবা দেশে বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা আত্নীয় -স্বজন কিংবা ভালোবাসার প্রিয় মানুষগুলোর খবর পেতে এখন আর দিনের পর দিন অপেক্ষায় থাকতে হয় না। কবে আসবে চিঠির উত্তর কিংবা কবে আসবে চিঠি বাহক ডাকপিয়ন তার খাকি কালারের পোশাক পরে এমন দিনগুনা বা অপেক্ষার প্রহরে থাকা মানুষ খুজেঁ পাওয়া এখন দূর্লভ।
অনেকেরই স্মৃতিবিজড়িত চিঠি, কারো চোঁখের জলে ভেজা চিঠি কারো আবার রক্তে ভেজা চিঠি তখনকার সেই খাতা কলমের লেখা চিঠির স্থলে আজ এসেছে ডিজিটাল ইমেল, মোবাইলফোন , এসএমএস ও ম্যাসেন্জার সহ ইত্যাদি আধুনিক যোগাযোগ মাধ্যম।
আধুনিকতার ছোয়ায় যোগাযোগ মাধ্যমের এই পরিবর্তনে মানুষের জীবনযাত্রা এখন সহজ হয়ে গেলেও হারিয়ে যাচ্ছে হাতে কলমে লেখা চিঠিপত্র।
বর্তমানে ডাকঘরগুলো শুধু সরকারি নথিপত্র পাঠানোর কাজেই ব্যবহৃত হচ্ছে।।
নব্বই দশকের সময়ে দেখা গেছে, মা-বাবা তার সন্তানের হাতে লেখা চিঠি যখন পড়তেন লেখার মধ্যে তখন হৃদয় দিয়ে সন্তানের মুখ দেখতে পেতেন। আবার যে মা-বাবা নিজে পড়তে পারতেন না, তারা চিঠিটি গ্রামের পড়তে পারা লোকদের কাছে নিয়ে যেতেন একটু পড়ে দেওয়ার জন্য। আবার স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে ছেড়ে দূরে থাকলে লিখতো অনেক রোমান্টিক চিঠি এর স্মৃতিবহণ করে সেইসময়ের সিনেমার জনপ্রিয় এই গান,” চিঠি লিখেছে বউ আমার ভাঙ্গা ভাঙ্গা হাতে” ।
দীর্ঘদিন পর পর যখন ডাকপিয়ন চিঠি নিয়ে আসতো তখন তার সাইকেলের বেলের টুংটাং আওয়াজ আর হাক-ডাক শুনে পরিবারের বুড়ো থেকে শুরু করে ছোট্ট বাচ্চারাও দৌঁড়ে আসতো সেই অপেক্ষামান চিঠির কথাগুলো জানতে।
আমাদের ভালবাসা নিয়ন্ত্রণ করত এই চিঠি।এই চিঠিই ছিলো আগের দিনের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম। নানা ধরণের কথোপকথন হতো এই চিঠির মাধ্যমে। আর চিঠি পত্র আদান প্রদানের সকল ব্যবস্থায় ছিলো পোষ্ট অফিস নির্ভর ফলে সেই সময় পোষ্ট অফিসের সামনে দেখা যেতো মানুষের উপচে পড়া ভিড় আর আত্নহারা কিংবা অপেক্ষারত চেহারা। হাতে কলম আর টেবিলে রাখা সাদা কাগজে চেয়ারে বসে লেখা পত্রগুলো পড়ে কখনো আনন্দে মুখে হাসি ফুটত। আবার কোন চিঠি পড়ে চোখের পানিও গড়িয়ে পড়ত। প্রেমিকা রাত জেগে হারিকেনের অল্প আলোতে ভালবাসার মহিমা দিয়ে সাদা কাগজে মনের কথা লিখন শেষে চুপি চুপি ডাকঘরে পোস্ট করা, আর উত্তরের আশায় মাসের পর মাস পোস্টমাস্টারের কাছে যাওয়া আসার অপেক্ষা।।
সেই অপেক্ষার প্রহরগুলো কত যে মজার ছিলো,বারবার চিঠে লিখে ভূল হলে ছিঁড়ে ফেলার এইসব মজা আধুনিক যুগের মানুষেরা বুঝবে না।
ডিজিটাল যোগাযোগ মাধ্যম ইমেল,ফ্যাক্স কিংবা টেক্সট, ম্যাসেজ সময় ও শ্রম বাচাঁলেও চিঠির সেই আনন্দের মজা কখনোই এক হয়না।
প্রযুক্তির ছোঁয়ায় আমরা যখন অভ্যস্ত ছিলাম না তখন চিঠিই যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হতো, এই চিঠিই কখনও বিনোদনের খোরাক যোগাত, কখনও ব্যথাতুর হৃদয়ে কান্না ঝরাতো, কখনও উৎফুল্ল করত, কখনও করত আবেগে আপ্লুত। কী যে সেই অদ্ভুত টান কালি ও কাগজে লেখা চিঠিতে। কিছু কিছু চিঠি বারবার খুলে পড়া হত। যেন কোনদিনই পুরান হবেনা হৃদয়ের এই ভাষা। প্রযুক্তির উৎকর্ষের এই যুগে সেসব আনন্দ আজ ম্লান। ডিজিটাল ইন্টারনেটের এ যুগে কাগজ-কলমে লেখা চিঠির প্রচলন অনেক কমে গেলেও তা একেবারে বন্ধ হয়ে যায়নি। অনেক অফিসিয়াল চিঠি এখনও প্রতিদিন ডাক বিভাগের মাধ্যমেই আসে তবে আধুনিকতার ছোঁয়ায় ডাকবিভাগ গুলোর কার্যক্রম শিথিল হয়ে যাওয়ায় এই ক্ষাত ভঙ্গুর হয়ে পরছে, লোকসান গুনতে হচ্ছে সরকারকে।।
অচল হয়ে পরেছে ডাকঘরের সেই বক্সগুলো যে বক্সগুলো একসময় মানুষের ভালোবাসা, আবেগের ছোঁয়া লেগে থাকতো, হৃদয়ের কথা বলতো সেই ডাক বক্সগুলো এখন কেবলমাত্র মরিচিকার সঙ্গী।
কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে ডাকঘর ও ডাকবক্স গুলো। গুটিঁ কয়েক ডাকঘর চালু থাকলেও নেই কোনো নিয়মরীতি কিংবা আধুনিকতা, তাও আবার সপ্তাহের অনেক দিনেই থাকে বন্ধ।।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ক্যাটাগরির আরো সংবাদ