বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০, ০১:৪৬ পূর্বাহ্ন

  • বাংলা বাংলা English English

নড়াইলে নিজের গায়ে এসিড ঢেলে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর পায়তারা করছেন এক গৃহবধু।
উজ্জ্বল রায়,  নড়াইল প্রতিনিধি / ৩৫ বার
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০

নড়াইলে নিজের গায়ে এসিড ঢেলে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর পায়তারা করছেন এক গৃহবধু। ওই গৃহবধুর নাম তানিয়া বেগম (২৭)। তিনি নড়াইল জেলার সদর উপজেলাধীন বাহিরগ্রামের মৃত গোলাপ মোল্যার মেয়ে।

জানা গেছে, তানিয়া একজন ধুরন্ধর প্রকৃতির নারী। সুদে ব্যবসাই তার মূল পেশা। এছাড়াও বিভিন্নভাবে মানুষকে ফাঁসিয়ে তাদের নিকট থেকে অর্থ আদায় করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সম্প্রতি একই গ্রামের নিরীহ যুবক জুয়েল মোল্যা তার নিকট থেকে টাকা ধার নিয়ে দিচ্ছে না বলে এলাকায় প্রচার করে বেড়ায়। এছাড়াও জুয়েল ও তার স্বজনদের বিরুদ্ধে চেক জালিয়াতির অভিযোগও করে থানায়। এতো কিছুর পরও তাকে ফাঁসাতে না পেরে ভিন্ন পথে পা বাড়ান ছলনাময়ী নারী তানিয়া।
গত ১৩ আগস্ট নড়াইল সদর থানায় জুয়েল ও তার স্বজনরা তাকে এসিড ছোঁড়ার হুমকি দিচ্ছে মর্মে একটি মিথ্যা সাধারণ ডায়রী লিপিবদ্ধ করেন। এরপর মিথ্যা জিডিকে নাটকীয় পরিবেশে আনার জন্য ১৭ আগস্ট রাতের অন্ধকারে মৃদু এসিডযুক্ত ব্যাটারির পানি নিজের শরীরে ঢেলে দিয়ে নিরীহ যুবক জুয়েল ও তার স্বজনদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন।
এ ঘটনার পর ১৮ আগস্ট তানিয়ার বড় বোন মিনি বেগম বাদী হয়ে ৭ জনকে আসামি করে নড়াইল সদর থানায় একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন। এদিকে মিথ্যা এ অভিযোগে ইতোমধ্যে তিনজন নিরীহ ব্যক্তি পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।
এ বিষয়ে বাহিরগ্রামের একাধিক ব্যক্তির সাথে কথা হলে তারা জানান, তানিয়া খুবই ধুরন্ধর এবং বেপরোয়া গোছের একজন ছলনাময়ী নারী। তার খপ্পরে পড়ে অনেকেই সর্বশান্ত হয়ে গেছে। নিজের রূপ-সৌন্দর্যকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে অনৈতিক সুবিধা আদায় করে সে। তাছাড়াও লোকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও অভিযোগ করে তার নিকট থেকে টাকা আদায় করে নেওয়া তার মূল পেশা।
ওই এলাকার ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন জানান, সম্প্রতি তানিয়া যে ঘটনার জন্ম দিয়েছে তা সম্পূর্ণ নাটকীয়। জুয়েল ও তার পরিবারের কাছ থেকে টাকা আদায় করার জন্য সে নিজের গায়ে এসিড ঢেলে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী জুয়েলের স্বজনরা জানায়, তানিয়া আমাদের শায়েস্তা করার জন্য আমাদের বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যা জিডি করেছিল। কিন্তু তাতে কোনো ফল লাভ না হওয়ায় নিজেই নিজের গায়ে এসিড ঢেলে আমাদের বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে। পুলিশি তদন্তে সঠিক তথ্য উঠে আসবে বলেও তারা ধারণা করছেন।
নড়াইল সদর হাসপাতালের আরএমও ডাক্তার মশিউর রহমান বাবু জানান, তানিয়াকে নড়াইল সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার পিঠ পুড়ে গেছে।
নড়াইল থানার এসআই শফি উদ্দিন জানান, অ্যাসিড বা কোনো দাহ্য পদার্থে তানিয়ার পিঠ পুড়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ক্যাটাগরির আরো সংবাদ