মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২০, ০৮:৫১ পূর্বাহ্ন

  • বাংলা বাংলা English English

রাজশাহী জেলা পুলিশে “বদলি অভিযান
স্টাফ রিপোর্টার খোরশেদ আলম / ২৫ বার
আপডেট : মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২০

রাজশাহী জেলা পুলিশের বিভিন্ন থানা ও পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত পুলিশ সদস্যদের ‘বদলি অভিযান’ শুরু হয়েছে। গত তিন দিনে জেলা পুলিশের বিভিন্ন থানা ও আওতাধীন ফাঁড়ির ১৭০ জন কনস্টেবলকে বদলি করা হয়েছে।

পরিদর্শক, উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও সহকারী উপ-পরিদর্শকদেরও (এসআই) একইভবাবে বদলি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। একই কর্মস্থলে দু’বছরের বেশি সময় রয়েছেন তাদের দ্রুত বদলি করা হচ্ছে। এছাড়া কর্মস্থলে থাকা অবস্থায় যারা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছেন তাদেরও বদলি করা হচ্ছে।

সম্প্রতি এলাকায় নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন গোদাগাড়ীর প্রেমতলী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আবদুল বারী। তাকে বদলি করা হয়েছে বাঘা থানায়। আর গোদাগাড়ীর কাঁকনহাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জকে দেয়া হয়েছে প্রেমতলী পুলিশ ফাঁড়িতে। এখন আবদুল বারীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর তদন্তও চলছে। এভাবেই ব্যবস্থা গ্রহণ করছে জেলা পুলিশ।

বিশেষ করে যেসব পুলিশ সদস্য বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ তথা মাদক জোনখ্যাত থানা ও ফাঁড়ি এলাকায় পোস্টিং নিয়ে বছরের পর বছর ঘুরেফিরে থাকছিলেন, তাদের আকস্মিকভাবে বদলি করা হয়েছে। তবে রাজশাহী জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার (এসসপি) মো. শহীদুল্লাহ বলছেন, মূলত এক থানা বা ফাঁড়িতে অথবা জায়গায় যারা দু’বছরের বেশি সময় ছিলেন তাদেরই বদলি করা হয়েছে।

এদিকে সংশ্লিষ্টরা বদলি আদেশ বাতিলে ব্যাপক তদবিরও শুরু করেছেন। তবে জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেয়ায় তারা এরই মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন। যদিও এ বদলিকে শুদ্ধি অভিযান না বলে জেলা পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, বদলি ও পদায়নের এ পদক্ষেপ পুলিশের রুটিন কাজ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ আগস্ট মাদক জোনখ্যাত জেলার গোদাগাড়ী থানার ১৮ জন কনস্টেবলকে একযোগে বদলি করা হয়েছে। এসব কনস্টেবলের বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মাদক সেবনের যেমন অভিযোগ রয়েছে তেমনি বড় বড় মাদক ব্যবসায়ীর সঙ্গে গভীর যোগাযোগেরও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এসব কনস্টেবল মাদক সম্রাটদের চর হিসেবে কাজ করেন। এসব কনস্টেবলকে জেলার মধ্যে বিভিন্ন থানা ও ফাঁড়িতে বদলি করা হয়েছে যেগুলোয় কেউ সহজে বদলি হতে চান না। অন্যদিকে রাজশাহীর আরও দুটি মাদকপ্রবণ এলাকা বাঘা ও চারঘাট থানা ছাড়াও পুঠিয়া থানার বেশকিছু কনস্টেবলকে বদলি করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজশাহী জেলা পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলেন, গোদাগাড়ী, বাঘা, পুঠিয়া ও চারঘাট থানায় থাকতে থাকতে অনেক পুলিশ সদস্য নিজেরাই মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। যেসব কনস্টেবলকে বদলি করা হয়েছে, তাদের অনেকের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগও রয়েছে। অনেক এএসআই ও এসআই রয়েছেন যারা কনস্টেবলদের সঙ্গে সিন্ডিকেট করে মাদক ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধীর কাছ থেকে টাকা আদায় করেন। এদেরই মূলত বদলির তালিকায় আগে আনা হয়েছে।

জানা গেছে, রাজশাহীতে পুলিশের অনেকেই আছেন যারা এক থানায় কনস্টেবল হিসেবে বদলি হয়ে এসে পদোন্নতি নিয়ে কিছু সময়ের জন্য অন্য থানায় বা কোর্টে অথবা ডিবি-এসবিতে যান। কয়েক মাসের মধ্যে তদবির করে আবার আগের থানায়ই ফিরে আসেন। এদের কেউ কেউ একই থানায় ঘুরেফিরে ৫-৭ বছর কাটিয়ে দেন। অনেকেই জেলাতেই কাটাচ্ছেন ১০ বছরের বেশি সময়।

কেউ কেউ কিছু সময়ের জন্য পার্শ্ববর্তী নাটোর, বগুড়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ অথবা নওগাঁ জেলায় কিছু সময় থেকে আবার ফিরছেন রাজশাহী জেলায়। এদিকে রাজশাহীর গোদাগাড়ী থানার ১৮ জন কনস্টেবল একযোগে বদলি আদেশ পাওয়ার পর তাদের অনেকেই জোর তদবির শুরু করেছেন।

রাজশাহীর এসপি মো. শহীদুল্লাহ বলেন, এসব বদলি স্বাভাবিক ও পুলিশের রুটিন কাজ। তিনি আরও বলেন, একই থানা ও ফাঁড়িতে যাদের দুই বছরের বেশি হয়েছে শুধু তাদেরই বদলি করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ক্যাটাগরির আরো সংবাদ