শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২০, ০৭:০১ অপরাহ্ন

  • বাংলা বাংলা English English

কুলিয়ারচরে বরখাস্তকৃত প্রধান শিক্ষকের এমপিওকরণের ভূয়া কাগজ-পত্র অগ্রায়ন করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে
মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি / ১৩৪ বার
আপডেট : শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২০

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার ছয়সুতী ইউনিয়নের বড় ছয়সূতী জনতা আইডিয়াল জুনিয়র হাই স্কুলের কমিটি না থাকার সুযোগে বিদ্যালয়ের নিয়োগ বিহীন প্রধান শিক্ষক মো. কামরুল ইসলাম গত ৫ জুন নিয়োগ সংক্রান্ত ভূয়া কাগজ-পত্র ও জাল বি.এড.সনদ তৈয়ারী করে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের উপ- পরিচালক বরাবর প্রধান শিক্ষক হিসেবে এমপিও ভুক্তিকরণের জন্য একটি আবেদন করেন। আবেদন যাছাই বাচায়ের পর জাল সনদের জন্য তার আবেদন বাতিল করে দেয় কর্তৃপক্ষ। বি.এড.সনদ ছাড়া গত ২৭ জুন পুনরায় আবেদন করলে বি.এড ডিগ্রি যোগ্যতা না থাকায় আবারও তার আবেদন বাতিল করেন উপ-পরিচালক। গত জুন মাসের শেষের দিকে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি অনুমোদন হলে কমিটির সভাপতি মো. কামরুল ইসালমকে নির্দেশ প্রদান করেন কমিটির অনুমতি ছাড়া পুনরায় আবেদন দাখিল না করে প্রধান শিক্ষক হিসেবে তার নিয়োগ সংক্রান্ত সকল কাগজ-পত্র কমিটির নিকট উপস্হাপন করার জন্য। কিন্তু মো. কামরুল ইসলাম গত ২৮জুলাই বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির অনুমতি ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে স্বাক্ষর ছাড়াই ভূয়া নিয়োগ সংক্রান্ত কাগজ-পত্রের মাধ্যমে এমপিও ভুক্তির জন্য পুনরায় আবেদন দাখিল করলে বিদ্যালয়ের সভাপতি কুলিয়ারচর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আলতাফ হোসেনকে অনুরোধ করেন মো. কামরুল ইসলামের কাগজ-পত্র অগ্রায়ণ না করার জন্য। আলতাফ হোসেন আশ্বস্ত করেন যে ভূয়া কাগজ-পত্রের আবেদন আর অগ্রায়ণ করা হবে না।

অপর দিকে গত ৩ আগষ্ট বিভিন্ন অনিয়ম, দূর্নীতি ও ভূয়া নিয়োগ সংক্রান্ত কাগজ-পত্র তৈরীর অভিযোগে মো. কামরুল ইসলামকে সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করে এ বিষয়ে তদন্তের জন্য কমিটি গঠন করে দেয় বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি। গত ৬ আগষ্ট তদন্ত কমিটির উপস্হাপিত রিপোটে মো. কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ২৪ লক্ষ টাকা দূর্নীতি ও নিয়োগ সংক্রান্ত মূল কাগজ-পত্রের অস্হিত্বহীনতা উঠে আসে। তদন্ত কালে মো. কামরুল ইসলামের কোন প্রকার নিয়োগ অস্হিত্ব না থাকায় “স্বীকৃতিপ্রাপ্ত বে-সরকারি মাধ্যমিক স্কুল শিক্ষকগণের চাকুরীর শর্ত বিধিমালা ১৯৭৯” এর ১৫ ধারায় অব্যহতি প্রদান করেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি মো. কামরুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত এবং অব্যহতি প্রদানের বিষয়টি কুলিয়ারচর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. আলতাফ হোসেনকে লিখিত ভাবে অবগত করা সত্ত্বেও তিনি ভূয়া কাগজ-পত্র দিয়ে এমপিও ভুক্তির আবেদন টি গত ৯ আগষ্ট রাতে তরিগরি করে অগ্রায়ণ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. আলতাফ হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বিধিমোতাবেক সাময়িক বরখাস্তকৃত প্রধান শিক্ষক মো.কামরুল ইসলাম পরবর্তীতে অব্যহতি প্রাপ্ত হওয়া সত্বেও তিনি তার উর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশে নিয়োগবিহীন ভূয়া ও অব্যহতি প্রাপ্ত ব্যক্তির কাগজ-পত্র অগ্রায়ণ করতে বাধ্য হয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ক্যাটাগরির আরো সংবাদ