বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০, ০৫:৫১ পূর্বাহ্ন

  • বাংলা বাংলা English English

রাজশাহীর অর্ধেক প্রাইভেট ক্লিনিকের অনুমোদন নেই
স্টাফ রিপোর্টার খোরশেদ আলম / ১৬ বার
আপডেট : বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০

রাজশাহী নগরীর অলিগলিতে ও আবাসিক এলাকায় ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। শুধু নগরী নয়- জেলার প্রত্যন্ত গ্রামেও অনেকেই খুলে বসেছেন ক্লিনিক আর ডায়াগনস্টিক সেন্টার। ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, নার্স নেই। তাতে কোনো সমস্যা নেই। দিব্যি চলছে চিকিৎসা বাণিজ্য। এসব বেসরকারি ক্লিনিক হাসপাতালের অধিকাংশেরই নেই কোনো সরকারি অনুমোদন। সুষ্ঠু তদারকির অভাবে এসব হাসপাতাল ক্লিনিকে প্রতিনিয়ত চিকিৎসার নামে রোগী প্রতারণার ঘটনা ঘটে।

রাজশাহী সিভিল সার্জন অফিসের তথ্য মতে, রাজশাহী মহানগরী ও জেলাজুড়ে সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সংখ্যা ১৬৯টি। এর মধ্যে হাসপাতালের সংখ্যা ৫৩টি ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সংখ্যা ১১৬টি। তবে এই অনুমোদনের বাইরে আরও ১১৫টি অনুমোদনবিহীন হাসপাতাল ক্লিনিক রয়েছে, যেগুলোর কোনো কাগজপত্রই নেই। তবে এগুলোতে এখনও দিব্যি চলছে চিকিৎসা বাণিজ্য ও রোগী প্রতারণার কাজ।

করোনাকালে চিকিৎসা সঙ্কটে স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে এখন এসব অনুমোদনহীন হাসপাতাল ক্লিনিক আর রোগ নির্ণয় কেন্দ্রের খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে রাজশাহীর পুঠিয়া ও বাগমারার পাঁচটি এমন অবৈধ ক্লিনিক তালাবদ্ধ করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। জেলার বিভিন্ন এলাকায় চলমান আরও অবৈধ হাসপাতাল চিহ্নিত করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। তবে এখন পর্যন্ত রাজশাহী নগরীর শতাধিক অবৈধ ক্লিনিকের বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. এনামুল হক বলেন, জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে নগরী ও জেলায় প্রাইভেট হাসপাতাল ক্লিনিকের অনুমোদন বিষয়ে সম্প্রতি কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এসব অনুমোদনহীন ক্লিনিকের প্রত্যেককে চিঠি দিয়ে আবেদন করতে বলা হয়েছে। আর যেগুলোর অনুমোদন আগে ছিল, সেগুলোকে অনুমোদন ও রেজিস্ট্রেশন নবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে বলা হয়েছে। সব আবেদন জমা পড়লে সরেজমিন তদন্ত করে তবেই অনুমোদন নবায়ন অথবা নতুন অনুমোদন দেয়া হবে। এক্ষেত্রে সিভিল সার্জনকে প্রভাবমুক্তভাবে পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

এদিকে বিভাগীয় স্বাস্থ্য দফতরের পরিচালক ডা. গোপেন্দ্র নাথ আচার্য জানান, কোথাও ন্যূনতম ১০ বেডের একটি প্রাইভেট হাসপাতাল করতে হলে সেখানে বাধ্যতামূলকভাবে তিনজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, ছয়জন নার্স ও তিনজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী থাকা আবশ্যক। এছাড়া কোনো প্রাইভেট হাসপাতালে পৃথক রোগ নির্ণয় ব্যবস্থা বা পরীক্ষা-নিরীক্ষা ব্যবস্থা চালু করতে হলে বিশেষ ক্যাটাগরির জনবল কাঠামোও সঙ্গে থাকা বাধ্যতামূলক। কোনো আবাসিক এলাকাতে প্রাইভেট ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টার করা যাবে না। এসব শর্ত পূরণ করলেই তবে কোনো প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিকের প্রাথমিক অনুমোদন দিতে পারে জেলা সিভিল সার্জন দফতর। তবে এর বাইরে প্রতিটি হাসপাতালকে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পৃথক নিবন্ধন গ্রহণ করতে হবে। অনুমোদন দেয়ার পরও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে সিভিল সার্জন অফিসকে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগে জানা গেছে, রাজশাহী মহানগরী ও জেলার বিভিন্ন উপজেলায় এমন শতাধিক প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিক রয়েছে যেগুলোতে কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই। দু-একটিতে নামকাওয়াস্তে প্রশিক্ষণার্থী নার্স বা আয়া রয়েছেন। নেই কোন টেকনোলজিস্ট। এসব ক্লিনিকে কোনো পরিচ্ছন্নতাকর্মীও নেই। জানা গেছে, গত ২৮ জুলাই পুঠিয়ার বানেশ্বর বাজারে পুষ্প ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালায় জেলা সিভিল সার্জন ডা. এনামুল হক নিজেই। সাইন বোর্ডে অনেক ডাক্তারের নাম ঝুলানো থাকলেও সেখানে কোনো চিকিৎসক ছিলেন না। এই অবৈধ হাসপাতালটির কোনো অনুমোদন না থাকলেও সেখানে নিয়মিত অপারেশন করা হচ্ছিল ও রোগী ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিল। অভিযানের পর সেটি বন্ধ করে দেয়া হয়।

স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, রাজশাহীতে সরকারি হিসাবে ও হিসাবের বাইরে ২৬৮টি প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার চলমান রয়েছে। এগুলোর অর্ধেকটিতেই কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই। কোনো টেকনোলজিস্ট না থাকলেও রমরমাভাবে তারা বিভিন্ন রোগ পরীক্ষার নামে রোগী ও স্বজনদের কাছ থেকে মোটা টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। সিভিল সার্জন অফিসকে ম্যানেজ করেই বছরের পর বছর চলছে এমন চিকিৎসা প্রতারণার মচ্ছব।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. এনামুল হক ও রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. গোপেন্দ্র নাথ আচার্য বলেন, এখন থেকে একটা আবেদন করেই হাসপাতাল ক্লিনিক খুলে বসার আর সুযোগ থাকবে না। কোন হাসপাতালে কী আছে, তা না দেখে অনুমোদনও দেয়া হবে না। সরকারি নির্দেশে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে অগ্রাধিকার দিয়ে কঠোরভাবে প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অনুমোদন দেয়া হবে। কেউ শর্তাবলী পূরণ না করতে পারলে আইন অনুযায়ী সেগুলোকে বন্ধ করা হবে। কেউ বন্ধ না করলে আইনানুগ পদক্ষেপ নেয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ক্যাটাগরির আরো সংবাদ