শুক্রবার, ২৩ এপ্রিল ২০২১, ০৪:৫১ পূর্বাহ্ন

  • বাংলা বাংলা English English

কালীগঞ্জে এলাকাবাসীর ধাওয়া খেয়ে বেঁচে গেলেন রাজউকের পরিচালক শেখ শাহিন ও খুনি আজম
মোঃ বিল্লাল হোসেন নিজেস্ব প্রতিবেদক ; / ১৪৮ বার
আপডেট : শুক্রবার, ২৩ এপ্রিল ২০২১

মদ্যপ অবস্থায় ও নারীদের নিয়ে ফূর্তি করার সময় এলাকাবাসীর ধাওয়া খেয়ে নৌকাযোগে নদীর পার হয়ে অল্পের জন্য বেঁচে গেলেন শেখ শাহিন নামে রাজউকের এক পরিচালক ও খুনি আজম খান। ঈদের পরেরদিন কালীগঞ্জ উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের নারগানা ইন্টারন্যাশনাল রিসোর্ট সেন্টারের ভেতর মদ খেয়ে নারী নিয়ে অসামাজিক কর্মকান্ডে লিপ্ত থাকাবস্থায় এলাকাবাসী হানা দিলে রাজউকের পরিচালক শেখ শাহিন ও রিসোর্টের মালিক চিহিৃত খুনি আজম খান তার ঘনিষ্টজনদের নিয়ে নৌকা যোগে পালিয়ে যাওয়ার সংবাদ পাওয়া গেছে। নারগানা ইন্টারন্যাশনাল রিসোটটি বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর শহীদ ময়েজউদ্দিনের চিহিৃত খুনি আজম খানের নিজস্ব বাংলো হিসেবে এলাকাবাসীর নিকট পরিচিত। শেখ শাহিনের বাড়ি টুঙ্গিপাড়ায় হওয়ায় সে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আত্মীয় পরিচয়ে চলাফেরা করে বলে নির্ভরশীল সূত্রে জানা যায়।

এলাকাবাসী জানায়, খুনি আজম খানকে কালীগঞ্জ উপজেলার সর্বস্তরের জনসাধারন তাকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করেন। এর পরও সে বিভিন্ন সময় রাতের আঁধারে তার ঘনিষ্ঠজন নারী-পুরুষদের নিয়ে তার বাংলোতে এসে প্রমত্ত লীলায় লিপ্ত থাকতো। তার রিসোর্টটি শীতলক্ষ্যা নদী ঘেঁঘা হওয়ায় সে প্রায় সময় পলাশ উপজেলা হয়ে নদী পথে নৌকা যোগে বাংলোতে আসা-যাওয়া করতো। সে যখন বাংলোতে আসতো মদ্যপ অবস্থায় তার ঘনিষ্টজনরা হৈচৈ করার শব্দ এলাকাবাসী শুনতো। রিসোর্টের ভেতরে আজম খান ও তার ঘনিষ্ঠজনদের অসামাজিক কর্মকান্ডে এলাকাবাসী অতিষ্ট হয়ে উঠে। এর আগেও এলাকাবাসী অতিষ্ট হয়ে তার বাংলোতে হানা দিয়েছিল। সে সময় এলাকাবাসীর ধাওয়া খেয়ে আজম খানসহ তার ঘনিষ্ঠজনরা পালিয়ে অল্পের জন্য বেঁচে গিয়েছিল। ১/১১ সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন গ্রেফতার হয়, তখন খুনি আজম খান প্রকাশ্যে মিষ্ঠি বিতরণ করে আনন্দ-উল্লাস করেছিল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন প্রতিনিধি জানান, সর্বস্তরের জনসাধারন যেদিন থেকে উপজেলা জুড়ে খুনি আজম খানকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করে। তাকে কালীগঞ্জের যেখানে পাওয়া যাবে সেখানেই প্রতিহত করা হবে। এমন ঘোষণার পর থেকে খুনি আজম খান আরোও বেপরোয়া হয়ে উঠে। সে প্রায় সময় তার বাংলোতে মদ পান ও নারীদের নিয়ে অসামাজিক কাজ চালিয়ে আসছিল। সে পাশ^বর্তী থানা পলাশ হয়ে নদী পথে তার বাংলোতে আসতো এবং প্রমত্ত লীলায় মগ্ন থাকতো। আজম খান রাতের আঁধারে রিসোর্টে এসে জনগণের অগোচরে অসামাজিক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছিল। তার বিরুদ্ধে এলাকাবাসী, জনসাধারণ ও রাজনীতি সংগঠনের অবাঞ্চিত ঘোষণা থাকলেও সে সেগুলো তেমন তোয়াক্কা করতো না। এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে ঈদের পরেরদিন রিসোর্টের ভেতর ঢুকে ধাওয়া দিলে সে ও তার ঘনিষ্ঠজন রাজউক পরিচালক শেখ শাহিন নৌকাযোগে নদীর পাড়ি দিয়ে প্রাণে বেঁচে যায়। তখন উত্তেজিত এলাকাবাসী রিসোর্টের কিছু ক্ষতিসাধন করে থাকেন।
শেখ শাহিন ও আজম খানের সাথে বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করেও তাদের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
কালীগঞ্জ থানার ওসি একেএম মিজানুল হক জানান, এলাকাবাসী থেকে জানতে পারি, আজম খান প্রায় সময় তার ঘনিষ্ঠজনদের নিয়ে রিসোর্টের ভেতর অসামাজিক কর্মকান্ড করে আসছে। সে স্থানীয় এমপির পিতা শহীদ ময়েজউদ্দিন আহমেদের চিহিৃত খুনি। তারপরেও আজম খান ও তার ঘনিষ্ঠজনদের নিয়ে নিজস্ব বাংলোতে অসামাজিক কর্মকান্ড চালিয়ে যাওয়ার মতো এতো সাহস পায় কী করে ? রিসোর্টে ক্ষতিগ্রস্তের ঘটনায় কেউ কোনো অভিযোগ করেনি।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ক্যাটাগরির আরো সংবাদ