বৃহস্পতিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২০, ১১:১০ অপরাহ্ন

  • বাংলা বাংলা English English

তাড়াইলে চাপ দিয়ে কিস্তি আদায় করছে এনজিওকর্মীরা
ছাদেকুর রহমান রতন, তাড়াইল (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি / ৩২৮ বার
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২০

“তিনবেলা খাওন ঝুটেনা, কিস্তি দেম কিবায়?” “হুনছি সরহারে কইছে আরও একমাস পরে কিস্তি নিব।” অহনদু ঘুমেত্বে উইট্টে বাড়িত আয়া খারোয়া থাকে। ”
কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার সাত ইউনিয়নের নিম্ন ও মধ্য বিত্ত মানুষেরা কোভিট-১৯ এর কারণে বর্তমাণে চরম বেকায়দায় আছেন। এসব শ্রেণি-পেশার মানুষেরা তাদের প্রয়োজনের তাগিদে বিভিন্ন এনজিও থেকে সারা বছর ঋণ নিয়ে থাকেন। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রায় সব মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত মানুষেরা৷ আছেন মহা সংকটে। এরি মাঝে এনজিওর প্রতিনিধিরা দৈনিক ও সাপ্তাহিক কিস্তির জন্য করছেন চাপ প্রয়োগ।
মোবাইল ফোনে চাপ সৃষ্টি করাসহ কর্মচারী পাঠিয়ে টাকা আদায় করছেন তারা।
সংশ্লিষ্ট এনজিও কর্তৃপক্ষ বলছে, তারা কোথাও চাপ সৃষ্টি করছেন না। কেউ স্বেচ্ছায় কিস্তির টাকা দিলে তা নিচ্ছেন। তাড়াইল উপজেলায় কাজ করা একাধিক এনজিওর শাখা ব্যবস্থাপকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সরকার জুন পর্যন্ত কিস্তি আদায় বন্ধ ঘোষণা করেছে। এ কারণে তারা কাউকে চাপ প্রয়োগ করেন না। যেহেতু তাদের অফিস খোলা সে কারণে কিস্তির টাকা গ্রহণ করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, বড় বড় এনজিওগুলো যেখানে কিস্তির টাকা আদায় করছে সেখানে আমাদের মতো ছোট সংস্থা বসে থাকবো কেন?
উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের ভুক্তভোগীরা জানান, তারা এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছিলেন। কিস্তি দিতে চাননি বলে তাদের সাথে ভাল ব্যবহার করেননি এনজিওর মাঠকর্মীরা। তারা আরো জানান, সরকার জুন মাস পর্যন্ত এনজিও ঋণ পরিশোধ করা লাগবে না বলে ঘোষণা দিলেও এনজিওগুলো তা মানছে না কেন?
সরেজমিনে তাড়াইল উপজেলায় দেখা যায়, গ্রামীন, ব্যাংক, ব্র্যাক, আশা, এসএসএস ও এফএইচপি’র মতো বড় বড় এনজিওর পাশাপাশি প্রায় অর্ধশত এনজিওর কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এসকল এনজিওগুলোর প্রতি সচেতনমহল ও সাধারণ মানুষের ক্ষোভ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
কারণ হিসেবে জানাযায়, চলমান করোনাকালীন সময়ে এ অঞ্চলের এনজিওগুলো কোনো সামাজিক কাজে নিজেদের সম্পৃক্ত করেনি। গরিব দুঃখি মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এনজিওগুলোর কোনো ভূমিকাই চোখে পড়েনি।এজন্যই অনেকে খুদ্দ হয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ক্যাটাগরির আরো সংবাদ