শুক্রবার, ০৫ মার্চ ২০২১, ১০:০৬ অপরাহ্ন

  • বাংলা বাংলা English English

গোমস্তাপুরে বিয়ের আগের দিন তরুনীকে অপহরণ, ১৫ দিনেও মেলেনি হদিস
ইমাম হাসান জুয়েল চাঁপাইনবাবগঞ্জঃ / ৪৮ বার
আপডেট : শুক্রবার, ০৫ মার্চ ২০২১

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে বিয়ের আগের দিন বাজার করে ফেরার পথে অপহরণ করা হয় এক তরুনীকে। অপহরনের ১৫ দিন পেরিয়ে গেলেও প্রতিবেশী অপহরনকারী ছেলের পরিবার মেয়েকে ফিরিয়ে এনে দিতে বিভিন্ন গড়িমসি করেছে। গোমস্তাপুর উপজেলার পার্বতীপুর ইউনিয়নের কাসরইল গ্রামের মো. ফরহাদ হোসেনের মেয়ে মোসা. ফারজানা খাতুনকে (১৯) গত ৮ জুলাই দুপুরে অপহরণ করা হয়৷ ফারজানার পরিবার ও স্থানীয়দের তথ্য মতে, সেদিন বিয়ের বাজার করে অটোতে বাসায় ফেরার পথে রহনপুর-নাচোল রোড হতে রহনপুর মহিলা কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ফারজানাকে অপহরণ করা হয়। এসময় ফারজানার সাথে থাকা চাচাতো ভাই ও চাচীকে জোর করে নামিয়ে অটোতে করে ফারজানাকে নিয়ে পালিয়ে যায়, একই এলাকার ফাগু বর্মনের ছেলে শ্রী চৈতন্য (২৮) ও তার বন্ধু শ্রী সাধু রায়ের ছেলে শ্রী গীরিধর।

অপহরনের দিন সাথে থাকা ফারজানার চাচী মোসা. জাকিয়া খাতুন বলেন, রহনপুরে বিয়ের বাজার শেষ করে অটোতে বাসায় ফিরছিলাম। অটোতে আগে থেকেই বসে ছিলো অপহরনকারী চৈতন্য ও গীরিধর। তবে সেটি আমরা স্বাভাবিকভাবেই নিয়েছিলাম, কারন তারা আমাদের প্রতিবেশী। কিছুক্ষণের মধ্যে খেয়াল করলাম অটো পার্বতীপুরের দিকে না গিয়ে রহনপুর-মাদরাসা মোড় হয়ে নাচোলের রাস্তায় যাচ্ছে। ড্রাইভারকে বারবার বললে সে জানায় এদিক দিয়ে কাছে হবে তাই যাচ্ছি। এরপর মাঠের মধ্যে ফাঁকা রাস্তায় অটো থামিয়ে আমাকে ও আমার দেবরের ছেলে মেহেদী হাসানকে (১২) জোর করে নামিয়ে অটোতে ফারজানাকে নিয়ে পালিয়ে যায়।

ফারজানার বাবা ফরহাদ হোসেন জানান, সেদিন দুপুরে ভাইবউ জাকিয়া বাসায় এসে ঘটনা খুলে বলার পর চৈতন্যর বাড়িতে বিষয়টি জানালে কাউকে না জানার অনুরোধ করে এবং মেয়েকে ফিরিয়ে এনে দেয়ার কথা বলে। বিষয়টি পার্বতীপুর ইউপি চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খানকে জানালে উভয় পক্ষকে নিয়ে বসে। সেখানে চৈতন্যর বাবা ফাগু বর্মন স্বীকার করেন, নওগাঁ জেলার সাপাহার উপজেলার তিনলা ইউনিয়নের তেঁতুলা গ্রামে দূর সম্পর্কের আত্মীয়ের বাড়িতে তারা অবস্থান করছে। তিনি আরো জানান, অপহরনের ৩ দিন পর ১১ জুলাই ইউপি সদস্য বাইরুল ইসলামকে নিয়ে সেখানে মেয়ের খোঁজে গেলে উল্টো তারাই আমাদের উপর আক্রমণ করেন। এমনকি আমার মেয়ে অসুস্থ তাই বলে মেয়ের সাথে দেখা বা কথা বলতে পর্যন্ত দেয়নি।

সনাতন ধর্মাবলম্বী কয়েকজন প্রতিবেশীও জানান, মুসলিম পরিবারের মেয়েটিকে অপহরন করে চৈতন্য নিয়ে গেছে। চৈতন্যর পরিবারও জানে সে কোথায় আছে কিন্তু তারা মেয়েটিকে গত ১৫ দিন থেকে এনে দিচ্ছে না।

অপহরনকারী চৈতন্যর বাড়িতে গেলে তার বাবা ঘটনার কথা স্বীকার করলেও ছেলে কোথায় আছে তা নিজেও জানেন না বলেন ফাগু বর্মন। তিনি বলেন, ফারজানার পরিবারকে বলেছি তাদের মেয়ে কোথায় আছে, এখন তাদের ব্যাপার কিভাবে মেয়েকে নিয়ে আসবে।

ইউপি সদস্য বাইরুল ইসলাম জানান, চেয়ারম্যানের নির্দেশে আমি তেঁতুলায় যেখানে ছেলেটি আছে সেখানে গেছিলাম। তবে তারা আমাদেরকে তাড়িয়ে দিয়েছে।

সাপাহার উপজেলার তিনলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুঠোফোনে জানান, ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম্যপুলিশ নিয়ে সেখানে সমাধানের লক্ষ্যে গেলে উল্টো তারাই আমাদেরকে মারধর করে পাঠিয়ে দেয়।

মুঠোফোনে সাপাহার থানার অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) জানান, এমন কিছু আমার জানা নেয়। তবে জানতে পারলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ক্যাটাগরির আরো সংবাদ