বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ০৭:১১ অপরাহ্ন

  • বাংলা বাংলা English English

নাগরপুরে নির্মানাধীন ব্রিজের কচ্ছপ গতিতে ভাঙ্গন হুমকিতে রয়েছে মসজিদ ও জনবসতি
মোঃ শহিদুল ইসলাম নাগরপুর(টাঙ্গাইল) প্রতিনিধিঃ / ১৩৫ বার
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২১

টাঙ্গাইলের  নাগরপুর উপজেলার কাঠুরি চৌরাস্তার নাগরপুর-সলিমাবাদ রোডের নির্মানাধীন ব্রিজের কচ্ছপ গতিতে ভাঙ্গন হুমকিতে রয়েছে বসতি, দোকানপাট ও মসজিদ।

সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, দর্ঘদিনের ক্ষতিগ্রস্থ ব্রিজটি নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশের পড় শুরু হয় মেরাত করা হয়। পরে একপর্যায়ে মেরামত অনুপযোগী হয়ে পড়ায় সেখানে নতুন ব্রিজ নির্মানের টেন্ডার হয়। এতে করে গত বছর কাজটি পায় টাঙ্গাইলের আলিফ এন্টারপ্রাইজ।
কাজটি পেয়েই বিকল্প চলাচলের ব্যবস্থা না করেই ভেঙ্গে ফেলে পুরাতন ব্রিজটি। পরে কাজের কচ্ছপ গতিতে শীতের শেষে বর্ষা মৌসুমে শুরু হয়। এতে করে নদ-নদী, খাল-বিলের পানি বৃদ্ধি পেয়ে নির্মানাধীন ব্রিজের উভয় পাড়ে ভাঙ্গন শুরু হয়। এতে করে ব্রিজের ৫০ গজের মধ্যে থাকা মসজিদটি পড়ে ভাঙ্গন হুমকিতে রয়েছে।

এস ডি ডি আর আই আর বি এর ৫৪ মিটার চেইন এর ১৫ মিটার গাডার ব্রিজটি নির্মান ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৭ লাখ ২৭ হাজার ৯ শত ৫৭ টাকা ৯৬ পয়সা। মেসার্স আলিফ এন্টারপ্রাইজ নামক টাঙ্গাইলের এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি পেয়ে ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯ সালে শুরু করে, যার মেয়াদ কাল ১৫ নভেম্বর ২০২০ সাল পর্যন্ত। পরে ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯ তারিখে আনুষ্ঠানিক ভাবে কাজটির উদ্বোধন করেন টাঙ্গাইল -৬ আসনের সাংসদ আহসানুল ইসলাম টিটু।
কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি ঐ জায়গার পুরাতন ব্রিজটি অপরিকল্পিত ভাবে ভেঙ্গে নাম মাত্র কাজ শুরু করে। জনসাধারনের যোগাযোগের জন্য নিরাপদ ডাই ভার্সন না করে তারা পুরাতন ব্রিজটি মালামাল ভেঙ্গে বিক্রিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। পরে পুরাতন ব্রিজটি মালামাল নেয়া শেষে অজানা কারনে কাজটি হঠাৎ অগোছালো ভাবে বন্ধ রেখে চলে যায় তারা। এতে বেড়ে যায় জনদূর্ভোগ ও দূর্ঘটনা। বর্ষার শুরুতেই আশেপাশের বসতি, দোকানপাট সহ মসজিদ পড়ে ভাঙ্গন হুমকিতে।

এ বিষয়ে এলাকাবাসী বলেন, আমাদের বিপদে ফেলে বিকল্প রাস্তা না করেই ঠিকাদার পুরাতন ব্রিজের মালামাল নিয়ে কেটে পড়েছে। আমাদের ঘরবাড়ি, দোকানপাট এবং মসজিদ আজ ভােঙ্গে যাওয়া উপক্রম। ক্রমশই খালটি ভেঙ্গে আমাদের স্থাপনার দিকে আসছে।
এ বিষয়ে নাগরপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম কামরুজ্জামান মনি বলেন, কাজটি আমাদের ইউনিয়ন পরিষদের নয়, কিন্তু সদর ইউনিয়ন পরিষদের এলাকায় বিধায় আমি উপজেলা প্রকৌশলীর সাথে বেশ কয়েকবার কথা বলেছি, যাতে কাজটি দ্রুত হয় এবং মসজিদ সহ ঘর-বাড়ি, দোকান-পাট ভেঙ্গ যাওয়ার আগেই ব্রিজের কাজটি শেষ করা হয়।

টাঙ্গাইলের মেসার্স আলিফ এন্টারপ্রাইজ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রোঃ মিন্টু বলেন, বিভিন্ন কারনে কাজটি থেমে গিয়েছে। এর মধ্যে বন্যা, উপযুক্ত পাথর না পাওয়া, বিদ্যুৎ এর খুটি স্থানান্তর এবং স্থানীয় জনসাধারণের অসহযোগীতায় কাজটি করতে যেয়ে আমাদের প্রচুর সময় নষ্ট হয়েছে। তবে আমরা আশাবাদী মেয়াদের মধ্যেই কাজটি শেষ করতে পারবো।

এ বিষয়ে কথা বলেতে গত ৯ জুলাই ২০২০ তারিখে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা নাগরপুর উপজেলার প্রকৌশলী মো. মাহাবুবুর রহমান এর অফিসে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। এছাড়াও ১২ জুলাই পর্যন্ত মুঠোফোনে তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ক্যাটাগরির আরো সংবাদ