বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০, ০৪:৪১ পূর্বাহ্ন

  • বাংলা বাংলা English English

সিংগাইরে প্রভাবশালীর দেয়ালে যোগী খালের পানি প্রবাহ বন্ধ
এ.বি.খান বাবু বার্তা প্রধান / ৭৮ বার
আপডেট : বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০

মানিকগঞ্জের সিংগাইরের মাধবপুর ও নোয়াদ্দায় প্রভাবশালী তমিজ উদ্দিন বাউন্ডারি নির্মাণ করায় বর্ষার পানি ঢুকতে পারছে না ওয়াইজনগর, মানিকনগর, শ্যামনগর, সায়েস্তা ও মাধবপুর এলাকায়। এতে ওই এলাকায় ফসলি জমির জলাবদ্ধতাসহ উর্বরতা হারানোর আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী। বাউন্ডারি দেয়াল তৈরি জন্য তমিজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে করেছে মামলা উপজেলা প্রশাসন।

প্রশাসন বলছে, বাউন্ডারি অনুমতি পেলেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

গত জুন মাসে জেলার সিংগাইর উপজেলার মাধবপুর ও নোয়াদ্দা মৌজার মাঝ দিয়ে প্রবাহিত যোগী খান দখল করে বাউন্ডারি নির্মাণ করেন ওই এলাকার প্রভাবশালী তমিজ উদ্দিন। স্থানীয়রা বাউন্ডারি নির্মাণ বন্ধের জন্য প্রাথমিকভাবে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহের নিগার সুলতানা সেখানে যায়। সেখানে স্থানীয়দের অভিযোগের সত্যতা মিললে তিনি সরকারি জমি কিনা তা নিয়ে জরিপ করেন। এতে দেখা যায় জমিটি মালিকানা। প্রাকৃতিকভাবে খালে পরিণত হয়েছে।
খালের ওপর ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। জুলাই মাসে প্রথম থেকেই ওই এলাকায় বর্ষার পানি আসলেও তা ব্রিজের নিজ দিয়ে প্রবাহিত হতে পারছে না বাউন্ডারির কারণে।
স্থানীয়রা বলছে, ব্যক্তিগত হলেও পানি প্রবাহ বন্ধ করার ক্ষমতা কারও নেই। গত জুন মাসের ১৫ তারিখের দিকে স্থানীয়রা দেয়াল অপসারণের দাবিতে একটি লিখিত আবেদন করেন উপজেলা জমি অফিসে। আবেদনের প্রেক্ষিতে দেয়াল নির্মাণের জন্য তমিজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন গত ৬ জুলাই একটি মামলা করে।

এদিকে মানিকনগর গ্রামের সিরাজুল ইসলাম বলেন, নোয়াদ্দা, ওয়াইজনগর, মানিকনগর, শ্যামনগর, সায়েস্তা ও মাধবপুর চকের হাজারো বিঘা ফসলি জমিতে চলতি মাসেই জলাবদ্ধতাসহ বর্ষার পানি ঢুকতে পারছে না। এতে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হবো। দেশের ফসলের ঘাটতি হবে।

একই এলাকার সালাম বেপারী বলেন, প্রশাসন মামলা করেছে। তারা জনগণের দিকে চিন্তা করলে দ্রুতই দেয়াল ভেঙে দিত। গরীবের কপালে কি পানি আছে, ফসল ভালো হবে। আমরা চাই আমাদের ফসল ও জমিতে জলাবদ্ধতা না থাক ও বর্ষার পানি ব্রিজের নিচ দিয়ে আসুক।
আরশেদ নামের অপরজন জানায়, আমরা কয়েকটি গ্রামের মানুষ। আর তমিজ উদ্দিন একাই কয়েকটি গ্রামের মানুষের বিরুদ্ধে দেওয়াল দিয়েছে ব্রিজের পাশে।
আরও পড়ুন: স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতির বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি কাদেরের
সিংগাইর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মেহের নিগার সুলতানা জানায়, বিষয়টি জানা মাত্র আমি জামির্ত্তা ইউনিয়নের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা কামরুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে যাই। সরোজমিনে মানুষের কথাসহ তমিজ উদ্দিনকে বাউন্ডারি ভেঙ্গে দেয়ার জন্য বলি। সে নিজের জায়গা বলে তার দলিলপত্র হাজির করেন। পরে যাচাই-বাচার করে দেখা যায় তার নিজের সম্পত্তি। এতে পরে উপজেলা নির্বাহীর পরামর্শে তাকে বাউন্ডারি ভেঙ্গে দেয়ার জন্য আহ্বান জানাই।
সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রোনা লায়লা বলেন, বিষয়টি আমি অবগত আছি। যেহেতু জায়গাটি ব্যক্তিগত মালিকানা। সেই ক্ষেতে জনগণের অসুবিধা করে সে দেওয়াল নির্মাণ করতে পানে না। তাকে ভেঙ্গে ফেলার জন্য সময় দেয়া হয়েছে। সে ভেঙ্গে না দেয়ায় জনগণের স্বার্থে উপজেলার প্রশাসনের পক্ষে থেকে মামলা করা হয়েছ। ভেঙ্গে দেয়ার জন্য কোটের অনুমতি পেলেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। যত বড় প্রভাবশালীর হোক, জনগণ থেকে সে বড় নয়।
এদিকে তমিজ উদ্দিনের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ক্যাটাগরির আরো সংবাদ