বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০, ১০:০৮ পূর্বাহ্ন

  • বাংলা বাংলা English English

বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কার সংবাদ সম্মেলনে ভ্যাকসিন আবিষ্কারের দাবি করেছেন ড. আসিফ মাহমুদ
ডেক্স নিউজ সন্ধান বাংলা টিভি / ৫৭ বার
আপডেট : বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০

বিশ্বব্যাপী মহামারী (কভিড-১৯) করোনাভাইরাস রোগের টিকা ভ্যাকসিন উদ্ভাবনের দাবি করেছেন গ্লোব বায়োটেক লিমিটেডের রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ডিপার্টমেন্টের প্রধান ডা. আসিফ মাহমুদ। ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান গ্লোব ফার্মাসিউটিক্যালস গ্রুপ অব কোম্পানি লিমিটেড’র সহযোগী প্রতিষ্ঠান গ্লোব বায়োটেক লিমিটেড। বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো কোনো প্রতিষ্ঠান এই টিকা উদ্ভাবনের দাবি জানালো।

গতকাল ২ জুলাই বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে গ্লোব বায়োটেক লিমিটেডের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়। টিকা উদ্ভাবনে সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন প্রতিষ্ঠানের সিইও ড. কাকন নাগ এবং সিওও ড. নাজনীন সুলতানা। প্রতিষ্ঠানটি গত ৮মার্চ এই টিকা তৈরির কাজ শুরু করে। ড. আসিফ মাহমুদ ভ্যাকসিনটি সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরে বলতে গিয়ে তিনি এক পর্যায়ে আবেগে কান্না ধরে রাখতে পারেননি। দ্রুত মাইক্রোফোন ত্যাগ করে চোখের জল আড়াল করার চেষ্টা করেন। কিন্তু কেন এই কান্না? আসিফ সারাবিশ্বের ভ্যাকসিনের অগ্রগতি সম্পর্কে বলতে থাকেন। প্রতিটি কম্পোনির ভ্যাকসিন আবিস্কারের সময়কাল উল্লেখ করে বলেন। ‘সারাবিশ্ব যদি পারে তাহলে আমরা কেন পারবো না? আমরা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ভ্যাকসিনের আশায় বসে থাকবো তা কেন হবে? তারা কবে দেবে আর আমরা কবে নেবো, সে আশায় বসে থাকলে চলবে না।’
তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, ‘আমাদের নিজস্ব একটি ভ্যাকসিন দরকার, যেন আমাদের অন্যের আশায় বসে না থেকে প্রত্যেকটি মানুষ ভ্যাকসিন গ্রহণের সুযোগ পায়।’
আসিফ বলেন, ‘আমরা আর কোনো চাকরি হারাতে চাই না, আমরা আর কোনো সঞ্চয় হারাতে চাই না, আমরা আর কোনো সুখী সময় হারাতে চাই না, আমাদের মধ্য থেকে আর কোনো মানুষকে হারাতে চাই না। “উই কান্ট এফোর্ড টু লুজ এনিমোর” বলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন ডা. আসিফ মাহমুদ।’
করোনায় কত কিছুই না হারিয়েছি, এই হারানোর বেদনা এতো গভীরে দাগ ফেলে যাচ্ছে, যা অনেকেই সামাল নিতে পারছে না। মানুষ চাকরি হারাচ্ছে, বাসা ভাড়া দিতে পারছে না। এই করোনা কত প্রিয় স্বজনকে কেড়ে নিয়েছে। আসিফ এসবের কিছুই হারাতে চান না। এজন্যই জান-প্রাণ ও মনোযোগ দিয়ে করোনার ভ্যাকসিনের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। প্রার্থনা জোড়ালো হয়েছে, ‘এবার আমাদের ভ্যাকসিন হচ্ছে হউক।’
‘প্রাথমিকভাবে করোনার ভ্যাকসিনে সফল হয়েছি। প্রাণী পর্যায়ে এটা সফল হয়েছে। তিনি জানান, তিনটি খরগোশের ওপর এই ভ্যাকসিন পরীক্ষা করা হয়েছে। আশা করি, মানবদেহেও সফলভাবে কাজ করবে এই ভ্যাকসিন।’ আরো জানান, এখন সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে এই রিপোর্ট পাঠানো হবে। এরপর তাদের দেওয়া গাইডলাইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। শিগ্রই প্রটোকল তৈরি করে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এটি হস্তান্তর করা হবে।
ড. আসিফ মাহমুদ অনার্সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাইক্রোবায়োলজিতে প্রথম শ্রেণিতে তৃতীয় ও এমএসসিতে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হওয়াতে আসিফকে নিয়ে একটি শ্রেণি গর্ব করেছে। বলা হয়েছে আসিফের সামনে আগামী দিন গুলোর সম্ভাবনা ছিল উন্নত জীবনের। চলে যেতে পারবে ইউরোপ-আমেরিকায়। কিন্তু তিনি যাননি। দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে দেশেই থেকে গেছেন। তিনি এইচএসসি নটরডেম কলেজ ও এসএসসি আইডিয়াল স্কুল থেকে সম্পন্ন করেন।
ভ্যাকসিন প্রয়োগে আশ^াস :
কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতার শিকার না হলে ট্রায়াল শেষে আগামী ডিসেম্বরেই গ্লোবের ভ্যাকসিন বাজারে আনতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির রিসার্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ডিপার্টমেন্টের প্রধান ড. আসিফ মাহমুদ। আজ শুক্রবার গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা জানিয়েছেন তিনি।
ড. আসিফ মাহমুদ বলেন, আমরা আপাতত ছয় থেকে আট সপ্তাহ সময় নিচ্ছি আমাদের রেগুলেটেড এনিমেল ট্রায়াল করতে। এরপর আমরা ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের প্রটোকল বিএমআরসিতে (বাংলাদেশ চিকিৎসা গবেষণা পরিষদ) জমা দেব। বিএমআরসির অথোরাইজেশন বোর্ড আমাদের অনুমতি দিলে সিআরও দিয়ে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে যাব।
দেশে তৈরি ভ্যাকসিন নতুন অভিজ্ঞতা জানিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, এরপর আমরা মার্কেট অথোরাইজেশনের জন্য ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কাছে যাব। এখানে কিছু বিষয় আছে, যেগুলো আমাদের হাতের নাগালে নেই। যেহেতু এই ভ্যাকসিনটা আমাদের দেশে প্রথম আবিষ্কৃত হয়েছে, সেহেতু এটা সবার জন্যই নতুন একটি অভিজ্ঞতা।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ক্যাটাগরির আরো সংবাদ