মঙ্গলবার, ০৯ মার্চ ২০২১, ০১:২১ পূর্বাহ্ন

  • বাংলা বাংলা English English

নাগরপুরে যমুনা ও ধলেশ্বরী নদীতে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে
মোঃ শহিদুল ইসলাম, নাগরপুর টাঙ্গাইল প্রতিনিধি / ১২৬ বার
আপডেট : মঙ্গলবার, ০৯ মার্চ ২০২১

টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার সলিমাবাদ ইউনিয়নে র পাইকশা মাইঝাইল, খাষ ঘুণি পাড়া, চর সলিমাবাদ, ভূতের মোড়, ভারড়া ইউনিয়নের শাহজানি, মারমা, উলাডাব, মোকনা ইউনিয়নের আগ দিঘুলীয়ার স্কুল ও উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র সহ রাস্তা, বাজারঘাট ও ঘর বাড়ি নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে।

সরেজমিনে, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে গিয়ে নদী পাড়ের মানুষদের করুন দশা পরিলক্ষিত হয়। এদের মধ্যে অনেকেই তাদের ক্ষেতের ফসল ঘরে তুলতে পারেনি তার উপর ১৪ পুরুষের ভিটেমাটি গিলে খাচ্ছে রাক্ষুসে নদী। কেউ বা ব্যাস্ত সময় পার করছে শেষ সম্বল ঘরটুকু ভেঙ্গে নৌকায় তুলে অজানার উদ্দেশ্যে রওনা দিতে।
পাইকশা মাইঝাইলের ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী ধরা গলায় বলে, গতকাল গাছের নীচে ভাতের প্লেট নিয়ে খেতে বসে, একটু অন্য দিকে তাকিয়ে ছিলাম, এর মধ্যেই প্লেটটিও হারিয়ে গিয়েছে নদীতে।

বাড়ি ভাঙ্গনের স্বীকার মো. লুৎফর রহমান বলেন, কয়েকদিন আগেও আমাদের সব ছিল, আজ প্রাণ ও দেহ ছাড়া আমাদের নাই বলতে কিছুই নাই। বাব-দাদার ভিটে আজ ক্রমেই নিয়ে যাচ্ছে নদী। একজন প্রতিনিধিরাও আমাদের কোন খবর নিলনা! আমরা বেঁচে আছি কিনা, না মরে গেছি, সাহায্য তো দূরের কথা। আমরাও তো মানুষ। সরকার যেন দ্রæত বেড়িবাঁধ নির্মান করে আমাদের এলাকা রক্ষা করেন।
দোকানের ঘর ভেঙ্গে নিতে ব্যাস্ত ব্যবসায়ী জানালেন, আমাদের যা ক্ষতি হওয়ার তা হয়েছে, কিন্তু সরকারের কাছে আমাদের অনুরোধ আমাদের মতো আর কেউ যাতে নিঃস্ব না হয়, সে লক্ষে বেড়িবাঁধ নির্মান অতি জরুরি।
নাগরপুর সরকারী কলেজের সাবেক জিএস মো. শফিকুল ইসলাম একটি টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মানের জোড়ালো দাবি জানান এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে।

টাঙ্গাইল জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমাদের জেলায় ২২.৭ কিলোমিটার নদীর ভাঙ্গনের স্থায়ী কাজের জন্য প্রস্তাবনা গত বছর দেয়া হয়েছে। এটি অনুমোদন হলে, ভাঙ্গন প্রবন নদীর পাড়ে পাথরের ¯øাব দিয়ে নদীর ভাঙ্গন স্থায়ী ভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। এছাড়াও আমরা ভাঙ্গনের গতি প্রকৃতি বিবেচনা করে এই মূহুর্তে অস্থায়ী প্রতিরোধের চেষ্টা করে যাচ্ছি। গতবারের প্রকল্পটি অনুমোদন হলে আশা করা যায় টাঙ্গাইল জেলায় নদী ভাঙ্গনের স্থায়ী সমাধান আসবে।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ক্যাটাগরির আরো সংবাদ