বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ০২:১৪ পূর্বাহ্ন

  • বাংলা বাংলা English English

কৃষক রুমান আলীর ব্যতিক্রমী উদ্যোগ : সবজি আবাদের মাধ্যমে তৈরি করলেন শহীদ মিনার
মুহাম্মদ কাইসার হামিদ  কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ / ৪৯ বার
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২১

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে মো. রুমান আলী শাহ নামে এক কৃষক ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলনের সকল শহীদদের স্মরণে, তাদের স্মৃতিতে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন স্বরুপ সবজি আবাদের মাধ্যমে তৈরি করলেন শহীদ মিনার।

শহীদ মিনারের পাশাপাশি তিনি সবজি দিয়ে লিখেছেন, “মোদের গর্ব মোদের আশা আমরি বাংলা ভাষা, অমর ২১”।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহীদ দিবস উপলক্ষে সকল শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের জাফরাবাদ গ্রামের মো. রুমান আলী শাহ নামক ওই কৃষক সবজি আবাদের মাধ্যমে এই চিত্রকর্মটি তৈরি করেছেন। তিনি এর আগেও সবজি দিয়ে বাংলাদেশের মানচিত্র, জাতীয় পতাকা ও নৌকা তৈরি করে আলোচনায় এসেছিলেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কৃষক রুমান আলী শাহ শুধু এই একটি চিত্রকর্ম নয়, তার এক একর ১৪ শতাংশ জায়গায় জুড়ে তিনি গড়ে তুলেছেন সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী এক খামার বাড়ি। এই খামার বাড়িতে রয়েছে দেশি মুরগী, কবুতর থেকে শুরু করে সব ধরনের সার, বীজ, কীটনাশকসহ স্থানীয় সব ধরনের ফলজ গাছের বাগান, উন্নত ও বিভিন্ন জাতের পেয়ারা বাগান, পাশাপাশি নতুন নতুন প্রযুক্তি সম্পন্ন বহুমুখী প্রকল্প। প্রতিটি প্রকল্প তিনি সাজিয়েছেন নিজস্ব বিভিন্ন ছোট ছোট শিক্ষা মূলক প্লেকার্ডে। এসব দেখে যে কারও দৃষ্টি কাড়বে এবং তার এই প্রতিটি প্রকল্পে রয়েছে নিজস্ব উদ্ভাবনী প্রযুক্তি। রুমান আলী শাহ’র এই খামার বাড়ির পিছনের গল্পটাও সহজ ছিলো না।

২০ বছর আগে তিনি কর্মের সন্ধানে পাড়ি জমিয়েছিলেন প্রবাসে। প্রবাস জীবনে সুবিধা করতে না পেরে ফিরে আসতে হয় তাকে। এর পর থেকে পরিবারে কাছেও হয়ে উঠেন বোঝা ও অপ্রিয়। চাকুরি বা একটা কর্মের জন্য ছুটেছেন অনেকের দুয়ারে দুয়ারে, কেউ সহায়তা করেনি। পরিবারের লোকজনও দুরে ঠেলে দেয়। সেই থেকে অনেক ভাবনার পর এই জমিতে বিভিন্ন সবজি চাষ করে জীবিকার সন্ধানে নামেন। তখন তিনি ছিলেন শূন্য। আজ তিনি ২৫ লাখ টাকা শুধু এই খামার বাড়িতেই বিনিয়োগ করেছেন। যার পুরো টাকা এখান থেকেই তিনি অর্জন করেছেন।

খামার ঘুরে দেখা যায়, পরিপাটি খামার বাড়িটি তিনি সাজিয়েছেন অত্যন্ত সুন্দর করে, বিশেষ করে প্রতিটি প্রকল্পের প্রবেশধারে ছোট ছোট প্লেকার্ড। যেমন মাটি বিহীন ঘাস উৎপাদনের প্রকল্পে লেখা “মাটি বিহীন ঘাসের চাষ করুন, সুস্থ সবল খামার গড়ুন”। দেশি মুরগীর খামারের লিখে রেখেছেন “দেশী মুরগীর যত্ন নিন, আসবে টাকা হবে না ঋন”। কবুতর খামারে লিখে রেখেছেন “কবুতরের যত্ন নিলে, ৩০ দিন পরপর বাচ্চা মিলে”। গাভীর খামারে লিখে রেখেছেন “গাভী ছাড়া উপায় নাই, দুধের বিকল্প কিছু নাই”। মাছের প্রজেক্টে লাইটিং প্রযুক্তিতে লেখা “মাছ খাবে পোকা, কৃষক খাবে না ধোঁকা” এমন অসংখ্য প্লেকার্ড দিয়ে সাজিয়েছে পুরো খামার বাড়িটি। যা সত্যিই যে কারও নজর কাড়বে।

এছাড়া এখনে তিনি এলাকাবাসী জন্য গড়ে তুলেছেন একটি কৃষি ক্লাব, যেখান থেকে এলাকাবাসী একেবারে ন্যায্য মূল্যে সংগ্রহ করতে পরে সার, বীজ, মেডিসিন, কীটনাশক, বিভিন্ন কৃষি যন্ত্রপাতি সহ কৃষি জাতীয় সকল পণ্য ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ।

এই বিষয়ে কৃষক মো. রুমান আলী শাহ’র কাছে এই খামার বাড়ি গড়ে তোলার লক্ষ্য ও তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, প্রবাস থেকে শূন্য হাতে ফিরে আমি যখন নিঃস্ব। তখন একটি কর্মের জন্য এদিক সেদিক ছুটেছি, কেউ তখন আমাকে সহায়তা করেনি। তখন এই জায়গায় আমি চাষাবাদ শুরু করি। এরপর পরিকল্পনা বাস্তবতা বায়নের অংশ অনুযায়ী খামার বাড়িটি তৈরি করি।

তিনি জানান, এই খামার বাড়ি নিয়ে আরও দীর্ঘ পরিকল্পনা আছে তার এবং এলাকায় যে সকল বেকার যুবক আছেন, তারা যেনো চাকুরির পিছনে না ছুটে তার এই খামার বাড়ি দেখে উদ্ভুদ্ধ হয় এবং স্ব-স্ব প্রচেষ্টায় স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করে। এ জন্য তিনি সকলের দোয়া কামনা করেন।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ক্যাটাগরির আরো সংবাদ