বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ০২:১২ পূর্বাহ্ন

  • বাংলা বাংলা English English

সিংগাইরে ইটভাটায় বিক্রি হচ্ছে তিন ফসলি জমির মাটি
আব্দুল গফুর (স্টাফ রিপোর্টার) / ১৬৬ বার
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২১

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় ইটভাটায় গিলে খাচ্ছে তিন ফসলি জমির মাটি। এ মাটি দিয়ে ইট তৈরির নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ইটভাটার মালিকরা এর কোনো তোয়াক্কাই করছে না। আর এ কারণেই সাবাড় হচ্ছে কৃষি জমির মাটি। জমির উর্বরতা শক্তি কমে গিয়ে ফসল উৎপাদনে বিপর্যয় ঘটছে। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে ‘মাটি খেঁকো’ মুনাফা লোভীদের কাজে লাগিয়ে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন ভঙ্গ করছেন বলে অভিযোগ ওঠেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাঠ থেকে আমন ধান ওঠার পরপরই ফসলি জমির মাটি বিক্রি শুরু হয়। আর এসব মাটি ট্রাকে ও ট্রলিতে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ইটভাটায়। কৃষকরা ভাটা মালিকদের প্রলোভনে পড়ে দেদারসে বিক্রি করছে ফসলি জমির উপরিভাগের টপসয়েল। নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের ম্যানেজ করে গড়ে ওঠা বৈধ-অবৈধ ইটভাটাগুলো কৃষকদের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাটি খেঁকোদের খপ্পরে পড়ে জমির উর্বর মাটি যাচ্ছে ইটভাটায়, পুড়ছে আগুনে। উজাড় হচ্ছে কৃষি জমি।

গত বৃহস্পতিবার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলার চান্দহর ইউনিয়নের ঢালিপাড়া-রিফায়েতপুর চকে গিয়ে দেখা যায়, কৃষকদের ফসলি জমির মাটি কেটে সাবাড় করা হচ্ছে। জমিগুলো পরিণত হচ্ছে পুকুর ও নালায়। দিনে মাটি কাটা বন্ধ রাখলেও রাতে কিংবা সরকারি সাপ্তাহিক ছুটির দিনে এসব ফসলি জমি থেকে মাটি কাটা হয়ে থাকে বলে ওই এলাকার কৃষক জুরানের পুত্র ইমরান হোসেন (৩২) অভিযোগ করে বলেন। তিনি আরো বলেন, এ মাটি ব্যবসার সাথে ঢালীপাড়া গ্রামের শাহ মিস্ত্রির পুত্র আব্দুল মালেক (৪০) জড়িত। প্রথমে তিনি কৃষকদের টোপ দিয়ে মাটি ক্রয় করেন। পরে এই চকের ফসলি জমিতে গড়ে ওঠা ইটভাটাগুলোতে বিক্রি করে দেন। আব্দুল মালেকের পাশাপাশি শামসুল ও আব্দুল মান্নান এ মাটি ব্যবসার সাথে জড়িত।

মাটি ব্যবসায়ী অভিযুক্ত আব্দুল মালেক মাটিকাটার বিষয় স্বীকার করে বলেন, আমি নিচু এলাকার এক ফসলি জমি থেকে মাটি বিক্রি করে থাকি। যা পরবর্তীতে মাছ চাষের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। আমি নিজেও মাছ চাষের সাথে জড়িত।

এদিকে, ওই ইউনিয়নের বাঘুলী চকে গিয়ে দেখা যায়, মাটি কাটার একই দৃশ্য। এ চকটিতে মাটি ব্যবসার মূল হোতা বাঘুলী গ্রামের ইয়াকুবের পুত্র রাজু (৩৫)। তার সাথে যোগ হয়েছে রতন মোল্লার পুত্র রুবেল (৩০) ও শামীম মোল্লার পুত্র বিল্লাল (৩২)। তারা প্রথমে কৃষকদের লোভ ও পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে মাটি বিক্রি করতে বাধ্য করে। এতে আশপাশের ফসলি জমি ভেঁঙ্গে পড়ে। ওই এলাকার মাটি কাটার মূল হোতা রাজুর সাথে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি রিসিভ করেননি।

পার্শ¦বর্তী মাধবপুর চকে গিয়ে দেখা যায়, ইটভাটায় গাড়ী চলাচলের জন্য ফসলি জমি নষ্ট করে বানানো হয়েছে রাস্তা। স্থানীয় কৃষক মজিদ, জুরাইন, বশির ও ইয়াকুব আলী অভিযোগ করে বলেন, আমরা ভাটা মালিকদের কাছে অসহায় ও জিম্মি হয়ে পড়েছি। পাশের জমি থেকে মাটি কেটে নেয়ায় আমাদের জমিগুলো ভেঙ্গে পড়েছে। গত বছরের জমি ভাঙ্গনের ক্ষত না শুকাতেই এবারও শুরু হয়েছে জমির মাটি কাটা। ভুক্তভোগী ফসলি জমির মালিকরা স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে গিয়েও কোনো প্রতিকার পাননি বলে জানান।

চান্দহর ইউপি চেয়ারম্যান মো. শওকত হোসেন বাদল চকে মাটিকাটার কথা স্বীকার করে বলেন, আমিতো মাটি কাটা বন্ধ করার কেউ নই। আমাকে জানানো হলে আমি ইউএনও স্যারের কাছে পাঠাই। এছাড়া আমাদের চকে মাটি কাটা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ টিপু সুলতান স্বপন বলেন, কৃষি জমির টপ সয়েল চলে গেলে এটা মারাত্মক ক্ষতি। এতে কৃষিতে বিপর্যয় নেমে আসবে। আইনগতভাবে এ বিষয়ে তার কিছু করার নেই বলেও তিনি জানান।

এ ব্যাপারে সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুনা লায়লা বলেন, এ ধরনের অভিযোগ যেখান থেকেই আসছে সাথে সাথেই আমরা অ্যাকশন নিচ্ছি। পাশাপাশি ওসি সাহেবকে বলা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ক্যাটাগরির আরো সংবাদ