শুক্রবার, ২৩ এপ্রিল ২০২১, ০৪:২৪ পূর্বাহ্ন

  • বাংলা বাংলা English English

আগাম বন্যায় ক্ষতির মুখে বাদাম চাষীরা !
মোঃ শহিদুল ইসলাম, নাগরপুর টাঙ্গাইল প্রতিনিধি। / ৯৪ বার
আপডেট : শুক্রবার, ২৩ এপ্রিল ২০২১

নদী বিধৌত দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় প্রতিবছরের ন্যায় এবছরেও বাদম চাষ করেছিল নদী পাড়ের কৃষকেরা। কিন্তু করোনা ও আগাম বন্যা কেড়ে নিয়েছে সংগ্রামী কৃষকদের মুখের হাসি।
নাগরপুর উপজেলা সহ আশেপাশের বিভিন্ন নদীর পাড়ে গিয়ে দেখা যায় কর্মব্যস্ত কৃষকদের মলিন মুখ।

তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, অল্প খরচে সার কীটনাশক ছাড়াই বাদাম চাষে বেশি লাভ হয়। তাই প্রতিবছর বাদাম চাষ করে লাভের মুখ দেখছিল। কিন্তু বৈশ্বিক মহামারী করোনার ভয়াল থাবায় দেশের অর্থনীতি যেমন ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে, তেমনি আগাম বন্যায় বাদাম সহ বিভিন্ন শস্য আজ পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। এতে করে পুরো বিনিয়োগই লোকসানের ঝুঁকিতে পড়েছে অনেক কৃষক। এদের মধ্যে কেউ কেউ বন্যার পানিতে প্লাবিত হওয়ার আগেই তুলে ফেলছেন শস্য।
এমনই বাদাম চাষি সেলিম রানা বলেন, বাদম পরিপক্ব হওয়ার আগেই তুলে ফেলায় এবছর আশানুরূপ ফলন হলেও লাভের মুখ দেখা সম্ভব নয়। তার উপর এই বাদম ক্ষেত থেকে তুলতেও গুনতে হচ্ছে নগদ টাকা। স্বল্প বিনিয়োগে অধিক লাভ হতো নদীবিধৌত চরঅঞ্চলে, কিন্তু এ বছর সব স্বপ্ন মলিন হয়ে গিয়েছে।
এ বিষয়ে লুৎফর রহমান, আল আমিন ও আব্দুর রাজ্জাক মিয়া মিয়া বলেন, সলিমাবাদ ইউনিয়নের অনেক বাদম চাষীর পুরো ক্ষেতই অগাম বন্যায় তলিয়ে গেছে। আমরা প্রায় অর্ধেক জমির অপরিপক্ক বাদাম তুলতে পেরেছি। এতে আমাদের প্রচুর লোকসান হয়েছে।
দিশেহারা এসব কৃষকরা মনের কষ্ট বুকে চেপে রেখে, ছলছল চোখে এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে পারেননি এ বিষয়ে।
এ বিষয়ে নাগরপুর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল মতিন বিশ্বাস বলেন, গত বছরের চেয়ে এ বছর চিনা বাদমের ফলন ভালো হলেও আগাম বন্যায় বাদামের আশানুরূপ ফলন ঘরে তোলা সম্ভব হচ্ছে না কৃষকের। অপরিপক্ক বাদাম দানা সঙ্কোচিত হয়ে ওজন এবং গুণগত মান কমে গিয়েছে। ফলে এসব বাদাম খুব বেশি সময় সংরক্ষণ করা সম্ভব নয়। ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা করে আগামীতে বিশেষ প্রণোদনার বিষয়ে উর্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে পরামর্শ করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। এছাড়াও চিনা বাদাম চাষ এলাকা হিসেবে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘোষণার পরিকল্পনার কথা জানিছেন তিনি।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ক্যাটাগরির আরো সংবাদ